পুতিনের পর এবার ট্রাম্পের নিশানায় চিন! ইরানকে সাহায্য করলে ড্রাগন সাম্রাজ্যে বসবে ৫০% শুল্ক

বিশ্ব রাজনীতিতে ফের বড়সড় বিস্ফোরণ! ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলা শান্তি আলোচনা কোনো রফাসূত্র ছাড়াই শেষ হওয়ার পর এবার সরাসরি চীনকে হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, চলমান যুদ্ধের আবহে চীন যদি ইরানকে সামরিক সহায়তা দেয়, তবে চিনা পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক (Tariff) আরোপ করবে ওয়াশিংটন।
কী কারণে এই চরম হুঁশিয়ারি?
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে চাঞ্চল্যকর তথ্য এসেছে যে, বেইজিং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানকে অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা ম্যানপ্যাড (MANPADS) সরবরাহ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, চীন এই চালানের উৎস গোপন করতে তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে এগুলো পাঠানোর চেষ্টা করছে। যদিও বেইজিং এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে, তবে ট্রাম্পের এই কড়া বার্তা বিশ্ব বাণিজ্য বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি করেছে।
হরমুজ প্রণালীতে কড়া পাহারা: ট্রাম্পের বড় চাল
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প এক দীর্ঘ পোস্টে ইরানকে কোণঠাসা করার পরিকল্পনা জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য:
-
ব্যর্থ পারমাণবিক চুক্তি: শান্তি বৈঠক ভালো হলেও পারমাণবিক অস্ত্র ইস্যুতে ইরান অনড় থাকায় কোনো চুক্তি হয়নি।
-
নৌসেনার হস্তক্ষেপ: অবিলম্বে মার্কিন নৌবাহিনী (US Navy) হরমুজ প্রণালীতে টহল শুরু করবে। এই জলপথ দিয়ে কোনো জাহাজ প্রবেশ বা বের হওয়ার চেষ্টা করলে তা কড়াভাবে পর্যবেক্ষণ ও বাধা দেওয়া হবে।
-
ইরানের মাইন হুমকি: ইরান দাবি করেছে যে ওই জলপথে অজ্ঞাত মাইন থাকতে পারে। ট্রাম্প একে বিশ্ববাসীর কাছ থেকে ‘জবরদস্তি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং স্পষ্ট করেছেন যে আমেরিকা এই চাপের কাছে মাথা নত করবে না।
বিশ্বজুড়ে টানটান উত্তেজনা
ট্রাম্পের এই ৫০ শতাংশ শুল্কের হুঁশিয়ারি চিনা অর্থনীতির ভিত নাড়িয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি মধ্যপ্রাচ্যের আগুনকে আরও উস্কে দিতে পারে।
নিউজ এডিটর নোট: ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান কেবল চীন নয়, ভারতসহ এশিয়ার বাকি দেশগুলোর আমদানিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতের সিংহভাগ তেল সরবরাহ হয়। তাই দিল্লির পরবর্তী অবস্থান কী হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে কূটনীতিবিদরা।