“জাহাজ সমুদ্রে পুঁতে দেব!” ট্রাম্পের হুঙ্কারে কাঁপছে বিশ্ববাজার, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে কি এবার ভারতও বিপাকে?

বিশ্বশান্তির আশা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত অন্ধকারেই ডুবল ইসলামাবাদ আলোচনা। দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠক কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ায় এখন যুদ্ধের মেঘ আরও ঘনীভূত। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই কূটনৈতিক ব্যর্থতার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এর ফলে জ্বালানি তেলের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।
ট্রাম্পের হাড়হিম করা হুমকি ও ভারতের উদ্বেগ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারি ভারতের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্রাম্প সাফ জানিয়েছেন—
“যদি ইরানকে টোল (খাজনা) দাও, তবে আমরা তোমাদের জাহাজগুলো সমুদ্রে পুঁতে দেব!” ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থান এবং হরমুজ প্রণালী নিয়ে অস্থিরতা ভারতের জ্বালানি আমদানির ওপর সরাসরি আঘাত হানতে পারে। পারস্য উপসাগরে ইতিমধ্যেই বিপুল সংখ্যক তেলবাহী ট্যাঙ্কার আটকা পড়েছে, যার ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
কেন ভেস্তে গেল আলোচনা?
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে.ডি. ভ্যান্স এই ব্যর্থতার জন্য ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে দায়ী করেছেন। অন্যদিকে, তেহরানের দাবি—যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু শর্ত চাপিয়ে দিয়েছে যা মেনে নেওয়া অসম্ভব। গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ট্রাম্পের অনমনীয় মনোভাব এবং লেবাননে ইজরায়েলি হামলা পরিস্থিতিকে জটিল থেকে জটিলতর করে তুলেছে।
মুদ্রাস্ফীতির কবলে বিশ্ব: ডাবলিনে গণবিক্ষোভ
তেল ও গ্যাসের ক্রমবর্ধমান মূল্যের কারণে বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি আছড়ে পড়ছে। আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে ইতিমধ্যেই জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন হাজার হাজার মানুষ। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো। ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির চাপে সুদের হার কমানোর পরিকল্পনা বাতিল করতে পারে অনেক দেশ।
পাঠক সমীক্ষা (Poll)
বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে আলোচনা ব্যর্থ হলে সাধারণ মানুষ কীভাবে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে?
-
(ক) তেল ও গ্যাসের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি
-
(খ) স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নতি
-
(গ) শিক্ষা বাজেটে কাটছাঁট
-
(ঘ) কৃষি রপ্তানি বৃদ্ধি
ভবিষ্যৎ কী?
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আলোচনা পুনরায় শুরু না হওয়া পর্যন্ত বাজারে এই চরম অনিশ্চয়তা বজায় থাকবে। শেয়ার বাজার থেকে শুরু করে ঋণের সুদ—সবই এখন মধ্যপ্রাচ্যের আগুনের ওপর নির্ভর করছে। শীঘ্রই কোনো সমাধান না পাওয়া গেলে এই জ্বালানি সংকট দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে, যা সমগ্র বিশ্ব অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।