বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে চন্দ্র বসু: প্রধানমন্ত্রীর সফরের দিনেই মাস্টারস্ট্রোক মমতার! পদ্ম শিবিরকে কড়া বার্তা ব্রাত্যের।

রাজ্য রাজনীতিতে মেগা ধামাকা! একদিকে যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উত্তরবঙ্গ সফরে ব্যস্ত, ঠিক তখনই কলকাতায় বড়সড় ধাক্কা খেল গেরুয়া শিবির। বিজেপি ত্যাগ করে আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর পরিবারের সদস্য চন্দ্র কুমার বসু। রবিবার তৃণমূল ভবনে মন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং সাংসদ কীর্তি আজাদের উপস্থিতিতে ঘাসফুলের পতাকা হাতে তুলে নেন তিনি।

“বিজেপিতে যাওয়া ঐতিহাসিক ভুল!”

তৃণমূলে যোগ দিয়েই বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন চন্দ্র বসু। তিনি সোজাসুজি স্বীকার করেন, “বিজেপিতে যোগ দেওয়া আমার জীবনের একটি ঐতিহাসিক ভুল ছিল। আজ তৃণমূলে এসে সেই ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করলাম।” তাঁর অভিযোগ, বিজেপির বিভাজনের রাজনীতি এবং সংবিধানবিরোধী অবস্থান নেতাজির আদর্শের সঙ্গে সম্পূর্ণ বিপরীত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সর্বধর্ম সমন্বয়ের লড়াইয়ে শামিল হতেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত বলে জানান তিনি।

মোদিকে তোপ ব্রাত্য বসুর

এদিন সাংবাদিক বৈঠকে ব্রাত্য বসু প্রধানমন্ত্রীর বঙ্গ সফরকে কটাক্ষ করে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বাংলায় এসে অরাজকতা খুঁজছেন, অথচ ৮৬০ দিন ধরে জ্বলতে থাকা মণিপুরে যাওয়ার সময় পাননি।” মণিপুরে মালদহের এক বিএসএফ জওয়ানের মৃত্যু নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। পাশাপাশি, বিজেপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলোকে ‘জুমলা’ বলে উড়িয়ে দেন সাংসদ কীর্তি আজাদ।

যেসব প্রধান ইস্যু নিয়ে ঝড় উঠল:

  • নারী সুরক্ষা: এনসিআরবি (NCRB) তথ্য তুলে ধরে উত্তরপ্রদেশকে নারী নির্যাতনে শীর্ষে রেখে যোগী সরকারকে আক্রমণ।

  • আর্থিক প্রতিশ্রুতি: বিজেপি ঘোষিত মহিলাদের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকার প্রকল্পকে দিল্লি-বিহারের মতো ‘ভুয়ো প্রতিশ্রুতি’ তকমা।

  • মণীষী অবমাননা: ডুয়ার্সের এক বিজেপি প্রার্থীর মহাত্মা গান্ধী ও ক্ষুদিরাম বসুকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ।

শোকের ছায়া ও রাজনৈতিক উত্তাপ

অনুষ্ঠানের শুরুতেই কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলের মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করে তৃণমূল নেতৃত্ব। তবে শোকের আবহেও রাজনৈতিক আক্রমণের ধার কম ছিল না। পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনের ঠিক আগে চন্দ্র বসুর মতো ব্যক্তিত্বের দলবদল বিজেপির জন্য বড় মনস্তাত্ত্বিক ধাক্কা।