কোটি কোটি টাকার প্রতারণা! আবগারি কনস্টেবল পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নাকি ভয়ংকর ফাঁদ? আসল সত্য ফাঁস করল পুলিশ!

ঝাড়খণ্ড আবগারি কনস্টেবল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে চলা জল্পনায় ইতি টানল প্রশাসন। ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন (JSSC) এবং রাঁচি পুলিশ যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে— প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি, বরং প্রশ্ন দেওয়ার নাম করে প্রার্থীদের থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি সুসংগঠিত ‘সলভার চক্র’।
অপারেশন ‘তামার’: পুলিশের জালে ১৬৪ জন
রবিবার রাঁচির সিনিয়র পুলিশ সুপার রাকেশ রঞ্জন জানান, গোপন সূত্রে খবর মেলে যে রাঁচির তামার থানা এলাকার একটি ভবনে প্রার্থীদের জড়ো করে প্রশ্নপত্র মুখস্থ করানো হচ্ছে। এই খবরের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে ১৫৯ জন প্রার্থীসহ মোট ১৬৪ জনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। উদ্ধার করা হয় প্রশ্নপত্র ফাঁসের নামে ব্যবহৃত জাল নথিপত্র।
১৫ লক্ষের চুক্তি! সবটাই ছিল সাজানো নাটক
তদন্তে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিহারের জেহানাবাদের বাসিন্দা অতুল ভাটস এই চক্রের মূল পান্ডা। সে এবং তার পাঁচ সহযোগী মিলে প্রার্থীদের সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার টোপ দিয়ে প্রত্যেকের কাছ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা করে দাবি করেছিল। পুলিশ জানিয়েছে:
-
প্রার্থীদের একটি গোপন ডেরায় নিয়ে গিয়ে ভুয়ো প্রশ্নপত্র মুখস্থ করানো হচ্ছিল।
-
আসল পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সঙ্গে উদ্ধার হওয়া প্রশ্নের কোনো মিলই পাওয়া যায়নি।
-
অর্থাৎ, প্রশ্নফাঁসের নামে সাধারণ পরীক্ষার্থীদের বোকা বানিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়াই ছিল এই চক্রের লক্ষ্য।
কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে JSSC
জেএসএসসি-র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রশান্ত কুমার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, পরীক্ষা অত্যন্ত স্বচ্ছ এবং শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কোনো প্রশ্ন ফাঁসের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে যারা এই জালিয়াতির সঙ্গে জড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হয়েছে।
“যে ১৫৯ জন প্রার্থীকে পুলিশ আটক করেছে, তাদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এই প্রার্থীদের আজীবনের জন্য JSSC-র যেকোনো পরীক্ষায় অংশগ্রহণে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।” — প্রশান্ত কুমার, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, জেএসএসসি।
সতর্কতা বার্তা
পুলিশ ও কমিশন যৌথভাবে পরীক্ষার্থীদের অনুরোধ করেছে, যেন কেউ এই ধরনের প্রতারক চক্রের ফাঁদে না পা দেন। সরকারি নিয়োগ কেবল মেধার ভিত্তিতেই হবে, কোনো অসাধু উপায়ে নয়। বর্তমানে মূল অভিযুক্ত অতুল ভাটস ও তার সহযোগীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রের শেকড় কতদূর বিস্তৃত, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।