“আমরা প্রতারণা করি না, যা বলি তাই করি!” বাঁকুড়ার সভা থেকে মোদীকে ‘নাকখত’ দেওয়ার চ্যালেঞ্জ মমতার

২০২৬-এর নির্বাচনী রণক্ষেত্রে রবিবাসরীয় প্রচারের মেজাজ চড়ালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষের পর বাঁকুড়ার ওন্দা ও ছাতনার জনসভা থেকে বিজেপিকে এক হাত নিলেন তিনি। সাফ জানালেন, তৃণমূল বিভাজনের রাজনীতিতে নয়, বরং ‘মানব ধর্মে’ বিশ্বাসী।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও উন্নয়নের গ্যারান্টি: ছাতনার সভা থেকে মানুষের আবেগ ছুঁতে মমতা বলেন, “আমরা প্রতারণা করি না। যা বলি, ঠিক তাই করে দেখাই। ২০২১-এর আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের কথা বলেছিলাম, করে দেখিয়েছি। এবার কথা দিচ্ছি, এই প্রকল্পের টাকা আপনারা সারা জীবন পাবেন।” উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে নেত্রী বোঝাতে চান, তৃণমূল সরকার প্রতিশ্রুতি রক্ষায় অবিচল।

বিজেপিকে কড়া চ্যালেঞ্জ: সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করে মমতা প্রশ্ন তোলেন, “২০১৪-র আগে বলা হয়েছিল সবার অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা ঢুকবে। কোথায় গেল সেই টাকা? কোথায় ২ লক্ষ মানুষের চাকরি?” এর পরেই তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, “আমি যদি মিথ্যে বলি তবে আমার কান কেটে নেবেন, আমি নাকখত দেব। নাহলে আপনি (মোদী) নাকখত দিন।”

মানব ধর্মের মন্ত্র: ধর্মীয় বিভাজন নিয়ে বিরোধীদের তোপ দেগে মমতার বক্তব্য, “তৃণমূল শুধু মানব ধর্মে বিশ্বাসী। আমরা সব ধর্ম পালন করি, মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ করি না। আমাদের ধর্ম মানবিক, তাই বাইরে থেকে কাউকে আমাদের ধর্ম শেখাতে হবে না।”

বিষাক্ত খাবার নিয়ে নয়া সতর্কবার্তা: ঝাড়গ্রামের সাম্প্রতিক ঘটনার রেশ টেনে এদিনও কর্মীদের সতর্ক করেন মমতা। তিনি বলেন, “বাইরের কোনও উল্টোপাল্টা জিনিস খাবেন না। খেয়াল রাখবেন, কেউ যেন বিষাক্ত খাবার বা পানীয় খাইয়ে দিতে না পারে।”

ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর বাঁকুড়ার এই সভা থেকে মমতা যেভাবে একদিকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের প্রতিশ্রুতি আর অন্যদিকে বিজেপিকে ‘নাকখত’ দেওয়ার চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন, তাতে রাজনৈতিক পারদ এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গেল।