“রিপোর্ট কার্ড দেখানোর মুখ নেই তৃণমূলের!” উত্তরবঙ্গ থেকে বিজেপিকে জেতানোর জোরালো আবেদন মোদীর

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক মুখে উত্তরবঙ্গ থেকে তৃণমূল কংগ্রেসকে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার শিলিগুড়ির জনসভা থেকে তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৫ বছরে পশ্চিমবঙ্গ শাসন করতে গিয়ে তৃণমূল কোনো গঠনমূলক কাজ করেনি, বরং রাজ্যের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করেছে। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “তৃণমূল ১৫ বছর ধরে শুধুই কু-কাজ করেছে।”
নতুন ভোটারদের উদ্দেশে বার্তা: এদিনের সভা থেকে তরুণ প্রজন্মকে ভোটদানের আহ্বান জানিয়ে মোদী এক বিশেষ হিসেব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “১৫ বছর আগে যখন তৃণমূল ক্ষমতায় আসে, আজকের তরুণ ভোটাররা তখন স্কুলের শিশু ছিল। তারা বিগত দেড় দশকে তৃণমূলের নির্মম অপশাসন আর ধ্বংস ছাড়া কিছুই দেখেনি। এবার তাদের হাতেই বাংলার ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ এসেছে।”
তৃণমূলকে ‘উত্তরবঙ্গ-বিরোধী’ তকমা: প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন যে, তৃণমূল সরকার উত্তরবঙ্গ, আদিবাসী, নারী এবং যুবকদের উন্নয়নের পথে প্রধান বাধা। তাঁর বক্তব্য:
-
তৃণমূল একটি ‘উত্তরবঙ্গ-বিরোধী’ দল।
-
তারা আদিবাসী এবং নারী উন্নয়নের পরিপন্থী কাজ করে।
-
রাজ্যের কোণায় কোণায় এবার একটাই স্লোগান উঠছে— ‘পরিবর্তন’।
রিপোর্ট কার্ড নিয়ে প্রশ্ন: তৃণমূলের কাজের খতিয়ান নিয়ে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে মোদী বলেন, “গত ১৫ বছরে তারা কী কাজ করেছে, তার কোনো রিপোর্ট কার্ড তৃণমূল দেখাতে পারবে না। কারণ, কাজ না করে শুধু কুকীর্তি করার পর কোন মুখে তারা মানুষের কাছে জবাব দেবে?”
ভোটের নির্ঘণ্ট ও প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, ২০২৬-এর এই মহাযুদ্ধের নির্ঘণ্ট ইতিমধ্যে ঘোষিত হয়েছে। আগামী ২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোটগ্রহণ হবে এবং ৪ মে জানা যাবে বাংলার মসনদে কে বসছেন। ২০২১ সালে তৃণমূল বিপুল জয় পেলেও, এবার বিজেপি যেভাবে উত্তরবঙ্গ থেকে আন্দোলনের সুর বেঁধে দিচ্ছে, তাতে এই লড়াই যে বেশ কঠিন হতে চলেছে, তা প্রধানমন্ত্রীর আক্রমণাত্মক মেজাজেই স্পষ্ট।