১৩ এপ্রিল কি আগুন লাগবে সোনা-রুপার দামে? ইরান-মার্কিন দ্বন্দ্বে বিশ্ববাজারে মহা-সংকট!

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনা কোনো রফাসূত্র ছাড়াই শেষ হওয়ায় তার সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে পণ্য বাজারে। বিশেষ করে সোনা ও রুপার দামে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছেন বাজার বিশ্লেষকরা। সোমবার, ১৩ এপ্রিল বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই মূল্যবান ধাতুর দামে তীব্র ওঠানামা দেখা যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কেন অস্থির সোনা-রুপার বাজার? পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে বিনিয়োগকারীরা এখন ‘নিরাপদ সম্পদ’ হিসেবে সোনা ও রুপার দিকে ঝুঁকছেন। ইরান সাফ জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিনিধিদল আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের দাবি—ইরান শর্ত মানতে নারাজ। এই রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাই বুলিয়ন মার্কেটে অস্থিরতা বাড়িয়ে দিয়েছে।

দেশীয় বাজারে প্রভাব ও ছুটির আপডেট ভারতে এই সপ্তাহে মুদ্রাস্ফীতির (CPI ও WPI) তথ্য প্রকাশিত হবে, যা বাজারের গতিপথ ঠিক করে দেবে। বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো— মঙ্গলবার আম্বেদকর জয়ন্তী উপলক্ষে সকালের সেশনে বাজার বন্ধ থাকবে, তবে সন্ধ্যার সেশনে লেনদেন আবার শুরু হবে।

বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন? জেএম ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রণব মেয়ার জানিয়েছেন, ডলারের দুর্বল অবস্থান এবং ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে সোনার দাম উর্ধ্বমুখী। অন্যদিকে, শিল্পক্ষেত্রে চাহিদা বাড়ায় রুপাও পাল্লা দিয়ে শক্তি বাড়াচ্ছে। এছাড়া চিনের অর্থনৈতিক তথ্য এবং ইউরোপীয় মুদ্রাস্ফীতির হারের দিকেও নজর রাখছেন বড় বিনিয়োগকারীরা।

গত সপ্তাহের খতিয়ান: এক নজরে মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (MCX) গত সপ্তাহে সোনা ও রুপার পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো:

  • রুপা: দাম বেড়েছে প্রায় ৫ শতাংশ

  • সোনা: দাম বেড়েছে প্রায় ২ শতাংশ

আন্তর্জাতিক বাজার অর্থাৎ COMEX-এও একই ধরনের তেজি ভাব লক্ষ করা গেছে। আগামী দিনে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যকার শান্তি আলোচনার ফলাফলের ওপর এই দুই মূল্যবান ধাতুর দাম অনেকাংশে নির্ভর করছে।