“ইরান হার মেনে নিয়েছে!” ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠক ব্যর্থ হতেই কেন এমন বললেন ট্রাম্প? কাঁপছে বিশ্ব

দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার স্নায়ুচাপের ম্যারাথন বৈঠক। বিশ্ব তাকিয়ে ছিল এক ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির দিকে। কিন্তু রবিবারের সূর্যোদয় বয়ে আনল চরম হতাশার খবর। ইসলামাবাদে আয়োজিত ইরান-আমেরিকা শান্তি বৈঠক কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “ইরান আমাদের শর্ত মানেনি, আমরা খালি হাতেই দেশে ফিরছি।”

বৈঠক কেন ব্যর্থ হলো? জেডি ভ্যান্সের বয়ান অনুযায়ী, আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ করা। আমেরিকা চেয়েছিল ইরান যেন লিখিত প্রতিশ্রুতি দেয় যে তারা কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। কিন্তু দীর্ঘ ২১ ঘণ্টা আলোচনার পরেও তেহরানের পক্ষ থেকে এমন কোনো শক্ত প্রতিশ্রুতি মেলেনি। ভ্যান্সের কথায়, “আমরা আমাদের ‘রেড লাইন’ বা সীমারেখা স্পষ্ট করে দিয়েছিলাম, কিন্তু ইরান তা গ্রহণ করেনি।”

রণংদেহি মেজাজে ডোনাল্ড ট্রাম্প: বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার খবর আসতেই হোয়াইট হাউস থেকে গর্জে উঠেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ তকমা দিয়ে তিনি বলেন:

  • “ইরান এই যুদ্ধে আগেই হেরে গিয়েছে। তাদের ক্ষেপণাস্ত্র সংখ্যা এবং উৎপাদন— দুই-ই এখন তলানিতে।”

  • কোনো ‘প্ল্যান-বি’ বা বিকল্প পরিকল্পনার প্রয়োজন নেই বলেই মনে করেন ট্রাম্প।

  • হরমুজ প্রণালী প্রসঙ্গে তাঁর আশ্বাস, অদূর ভবিষ্যতেই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ পুনরায় খুলে যাবে।

পর্দার আড়ালে কারা ছিলেন? ইসলামাবাদের এই হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে উপস্থিত ছিল দুই দেশের হেভিওয়েট প্রতিনিধিদল। ইরানের পক্ষে ছিলেন বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং সংসদের স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে জেডি ভ্যান্সের পাশাপাশি ছিলেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাই জ্যারেড কুশনার।

আগামীর শঙ্কা: শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের মেঘ আরও ঘনীভূত হলো। ২১ এপ্রিল পর্যন্ত ঘোষিত অলিখিত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আমেরিকা কি নতুন করে সামরিক অভিযানে যাবে? ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে সেই ইঙ্গিতই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।