আমেরিকাকে বড় ধাক্কা কানাডার! মোদির ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র পথে হেঁটে ট্রাম্পকে চ্যালেঞ্জ প্রধানমন্ত্রী কার্নির।

আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বহুল প্রচলিত এক প্রবাদ আছে— “নির্ভরশীলতাই হলো দুর্বলতার প্রথম ধাপ।” আর সেই দুর্বলতার শৃঙ্খল ভাঙতেই এবার রণহুঙ্কার দিলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। প্রতিরক্ষা বাজেটের সিংহভাগ আমেরিকার হাতে তুলে দেওয়ার দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে, কানাডাকে এবার ‘আত্মনির্ভরশীল’ করার পথে হাঁটছেন তিনি। আশ্চর্যের বিষয় হলো, কার্নির এই নতুন কৌশলটি সরাসরি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের আদলে তৈরি।

ওয়াশিংটনকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ লিবারেল পার্টির সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী কার্নি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকার ‘বিগ ব্রাদার’ সুলভ প্রভাব আর মেনে নেওয়া হবে না। তিনি পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, বর্তমানে কানাডার সামরিক বাজেটের প্রায় ৭০ শতাংশ অর্থ চলে যায় মার্কিন প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলোর পকেটে। কার্নির হুঁশিয়ারি, “কানাডার সামরিক বাহিনীর খরচ করা প্রতিটি ডলারের ৭০ সেন্ট যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর দিন এবার শেষ।”

কেন এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত? কানাডার এই নীতি পরিবর্তনের পেছনে কাজ করছে গভীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমীকরণ:

  • ট্রাম্প ফ্যাক্টর: ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনিশ্চিত পররাষ্ট্রনীতি এবং আমেরিকার একতরফা প্রভাব থেকে বেরিয়ে এসে নিজেদের ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ প্রতিষ্ঠা করতে চায় কানাডা।

  • বিশ্বব্যবস্থার অস্থিরতা: ইরান-ইসরায়েল সংঘর্ষ এবং মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ অটোয়াকে ভাবিয়ে তুলেছে। নিজেদের প্রতিরক্ষার জন্য একটি মাত্র দেশের ওপর নির্ভর করা এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছে তারা।

  • প্রযুক্তির লড়াই: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির যুগে কানাডা এখন নিজের দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প ও কারখানাগুলোকে শক্তিশালী করতে চায়।

মোদির পথে কার্নি: প্রভাব পড়বে বিশ্ববাজারে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারতের ‘আত্মনির্ভর ভারত’ অভিযান যেভাবে বিশ্বজুড়ে প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের আমদানিকারক থেকে রপ্তানিকারক হওয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছে, মার্ক কার্নিও ঠিক সেই পথেই কানাডাকে নিয়ে যেতে চাইছেন। এর ফলে আমেরিকার বিশাল প্রতিরক্ষা রপ্তানি বাজার বড়সড় ধাক্কা খাবে। ওয়াশিংটনকে বাদ দিয়ে কানাডা এখন ইউরোপীয় দেশগুলোর সাথে নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি করতে পারে অথবা নিজস্ব শিল্পকে এগিয়ে নিতে বড় দরপত্র আহ্বান করতে পারে।

উপসংহার: মার্ক কার্নির এই পদক্ষেপ বিশ্ব রাজনীতিতে কানাডাকে একটি ‘স্বাধীন শক্তি’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রথম ধাপ। ট্রাম্পের জমানায় আমেরিকার সবচেয়ে পুরনো বন্ধু যদি এইভাবে ছায়া থেকে বেরিয়ে আসে, তবে তা বিশ্ব ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণের জন্ম দেবে।