“ইরানকে জাহান্নামে পাঠাব!” ট্রাম্পের এক পোস্টেই কাঁপছে দুনিয়া, শুরু হচ্ছে কি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ?

ইরান বনাম আমেরিকা সংঘাত এবার চরমে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি দীর্ঘ ও আক্রমণাত্মক পোস্ট করে ইরানের ওপর কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক শক্তিধর হতে দেওয়া হবে না এবং তাদের ‘একগুঁয়েমি’র ফল হবে ভয়াবহ।

হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন দাপট ট্রাম্প তাঁর পোস্টে অভিযোগ করেছেন, ইরান হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা রক্ষা করেনি। উল্টো সমুদ্রে মাইন পেতে রাখার হুমকি দিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন:

  • কড়া নজরদারি: মার্কিন নৌবাহিনী এখন থেকে হরমুজ প্রণালীতে প্রতিটি জাহাজের ওপর নজর রাখবে।

  • জাহাজ বাজেয়াপ্ত: যে সমস্ত জাহাজ ইরানকে অবৈধভাবে শুল্ক প্রদান করবে, মার্কিন বাহিনী প্রয়োজনে সেই সব জাহাজ আটকে দেবে।

  • কড়া হুঁশিয়ারি: ট্রাম্পের ভাষায়, “যদি কোনো ইরানি মার্কিন বা কোনো শান্তিপূর্ণ জাহাজের ওপর গুলি চালায়, তবে তাকে সরাসরি জাহান্নামে পাঠানো হবে।”

ইসলামাবাদ বৈঠক ও ব্যর্থ সমঝোতা ভাইস প্রেসিডেন্ট জে.ডি. ভ্যান্স এবং জ্যারেড কুশনারের উপস্থিতিতে ইসলামাবাদে ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রায় ২০ ঘণ্টা ধরে আলোচনা চলে। ট্রাম্প জানান, অনেক বিষয়ে ঐকমত্য হলেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘পারমাণবিক কর্মসূচি’ নিয়ে ইরান একচুলও নড়তে রাজি হয়নি। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইরানের মোহাম্মদ-বাঘের গালিবফ এবং আব্বাস আরাঘচিরা, কিন্তু পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগের বিষয়ে তাঁরা কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি।

পাকিস্তান ও সেনাপ্রধানের প্রশংসা এই আলোচনার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ এবং সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসলামাবাদে এই আলোচনার পরিবেশ তৈরি করার জন্য তিনি তাঁদের ধন্যবাদ জানান।

“ইরানের সব শেষ করে দেব” ট্রাম্পের দাবি, ইরানের সামরিক শক্তি ইতিমধ্যেই মেরুদণ্ডহীন হয়ে পড়েছে। তাদের নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী বিধ্বস্ত এবং অধিকাংশ শীর্ষ নেতা নিহত। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “ইরানকে এই জবরদস্তি থেকে ফায়দা লুটতে দেওয়া হবে না। আমাদের সামরিক বাহিনী ইরানের যা কিছু অবশিষ্ট আছে, তা ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।”

খুব শীঘ্রই হরমুজ প্রণালীতে বড় ধরনের মার্কিন অবরোধ শুরু হতে যাচ্ছে এবং এতে অন্যান্য বন্ধু দেশগুলোও যোগ দেবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিস্থিতি এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।