টয়লেট ফ্লাশ করার আগে ঢাকনা বন্ধ করছেন? নতুন গবেষণার ফলাফল জানলে চমকে উঠবেন!

আমরা এতদিন জেনে এসেছি, টয়লেট ফ্লাশ করার আগে ঢাকনা বন্ধ করা একটি জরুরি স্বাস্থ্যবিধি। ধারণা করা হতো, এর ফলে ‘টয়লেট প্লুম’ বা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ব্যাকটেরিয়ার মেঘ বাতাসে মিশে গিয়ে রোগ ছড়াতে পারে না। কিন্তু সাম্প্রতিক এক গবেষণা এই চিরন্তন ধারণাকে একপ্রকার চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।

ঢাকনা বন্ধ রাখা কি সত্যিই কার্যকর? ‘আমেরিকান জার্নাল অফ ইনফেকশন কন্ট্রোল’-এ প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণায় দেখা গেছে যে, টয়লেটের সিট খোলা রাখা বা বন্ধ রাখার মধ্যে সংক্রমণের কোনো বড় পার্থক্য নেই। গবেষকরা টয়লেট বোলে বিশেষ আরএনএ ভাইরাস প্রবেশ করিয়ে পরীক্ষাটি চালান। ফলাফলে দেখা যায়, ঢাকনা বন্ধ থাকা সত্ত্বেও বাথরুমের বিভিন্ন পৃষ্ঠে ভাইরাস ও অ্যারোসলের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। অর্থাৎ, কেবল ঢাকনা বন্ধ করেই আপনি পুরোপুরি নিরাপদ নন।

জীবাণুমুক্ত বাথরুমের আসল চাবিকাঠি কী? গবেষণায় একটি বিষয় খুব স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে— ঢাকনা বন্ধ করার চেয়েও জরুরি হলো নিয়মিত জীবাণুনাশক ব্যবহার করা। ফ্লাশ করার পর টয়লেটে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধি রোধ করতে লিকুইড ক্লিনার বা ডিসইনফেক্টেন্ট ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই।

কতবার এবং কীভাবে পরিষ্কার করবেন?

  • নিয়মিত পরিষ্কার: গবেষকদের মতে, আদর্শ অভ্যাস হলো প্রতিবার ব্যবহারের পর পরিষ্কার করা। যদি তা সম্ভব না হয়, সপ্তাহে অন্তত একবার টয়লেট কমোড ভালো করে পরিষ্কার করা বাধ্যতামূলক।

  • সঠিক পদ্ধতি: শুধু টয়লেট সিট নয়, বরং সিঙ্ক, দেয়াল এবং শাওয়ার কার্টেনের দিকেও নজর দিন। ব্লিচযুক্ত কমার্শিয়াল ক্লিনার এক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো কাজ করে।

  • ব্রাশের যত্ন: ব্যবহারের পর টয়লেট ব্রাশটিও ব্লিচ দিয়ে ধুয়ে ফেলুন, নয়তো এটিই হয়ে উঠতে পারে জীবাণুর আখড়া।

মনে রাখবেন: ‘টয়লেট প্লুম’-এ থাকা ই. কোলাই-এর মতো ব্যাকটেরিয়া বাথরুমে প্রায় ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বাতাসে ভেসে থাকতে পারে। তাই পরিবারের কেউ অসুস্থ থাকলে বাথরুম পরিষ্কার করার হার আরও বাড়িয়ে দিন।