যুদ্ধ লেগেছে তবুও কমছে সোনা! অবিশ্বাস্য ৯% পতনে চমকে গেল বিশ্ববাজার, এখনই কি কেনার সেরা সময়?

ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা বা যুদ্ধের খবর এলে সাধারণত হু হু করে বাড়ে সোনার দাম। কিন্তু ২০২৬ সালের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ উল্টো। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চরম সংঘাত চলা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে প্রায় ৯ শতাংশ পতন লক্ষ্য করা গিয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর প্রথম দিকে দাম সামান্য বাড়লেও, মার্চের মাঝামাঝি থেকে তা হুড়মুড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে।

যুদ্ধের মাঝেও কেন কমছে সোনার দাম?

বিশেষজ্ঞরা এই রহস্যময় পতনের পিছনে তিনটি প্রধান কারণ তুলে ধরেছেন:

১. শক্তিশালী মার্কিন ডলার: বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা বাড়লেও বিনিয়োগকারীরা এবার সোনার বদলে ডলার এবং বন্ডের ওপর বেশি ভরসা রাখছেন। ডলার শক্তিশালী হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার চাহিদা কমেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে দামে। ২. উচ্চ সুদের হার: যুদ্ধের প্রভাবে তেলের দাম বাড়ায় মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলি সুদের হার কমানোর ঝুঁকি নিচ্ছে না। বন্ডের মতো সুদবাহী বিনিয়োগ এখন সোনার চেয়ে বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। ৩. প্রফিট বুকিং: ২০২৫ ও ২০২৬-এর শুরুতে সোনা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল। বর্তমান অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে অনেক বড় বিনিয়োগকারী চড়া দামে সোনা বিক্রি করে লাভ তুলে নিচ্ছেন (Profit Booking), যা দামকে আরও নিচের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বাজারের ভবিষ্যৎ কোন দিকে?

স্বল্পমেয়াদে সোনার দামের ওপর এই চাপ বজায় থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে। যদি ডলারের আধিপত্য বজায় থাকে এবং সুদের হার না কমে, তবে সোনা আরও কিছুটা সস্তা হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে চিত্রটি আলাদা হতে পারে। যদি রাজনৈতিক ঝুঁকি আরও বাড়ে বা ডলার দুর্বল হতে শুরু করে, তবে সোনা আবার নিজের হারানো জমি ফিরে পেতে পারে।

বিনিয়োগকারীদের জন্য টিপস: সোনা মানেই সবসময় ‘নিরাপদ বিনিয়োগ’—এই ধারণা এবার ধাক্কা খেয়েছে। বর্তমান বাজার এখন ডলার, তেলের দাম এবং সুদের হারের এক জটিল সমীকরণের ওপর দাঁড়িয়ে। তাই এই মুহূর্তে সোনায় বড় বিনিয়োগ করার আগে বাজারের গতিপ্রকৃতি খুব সাবধানে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।


বাজারে বিনিয়োগ সংক্রান্ত প্রতিটি ব্রেকিং খবরের জন্য আমাদের ফলো করুন। প্রতিবেদনটি ভালো লাগলে পরিচিতদের সঙ্গে শেয়ার করুন!