আকাশপথে ভারতের ‘ব্রহ্মাস্ত্র’! ১ ঘণ্টায় ১০,০০০ কিমি পাড়ি দেবে হাইপারসনিক মিসাইল, কাঁপছে শত্রুপক্ষ

সামরিক প্রযুক্তিতে বিশ্বকে চমকে দিতে চলেছে ভারত। শব্দের চেয়ে কয়েক গুণ দ্রুত গতির হাইপারসনিক অস্ত্রের (Hypersonic Weapons) এক পূর্ণাঙ্গ ভাণ্ডার গড়ে তুলছে নয়াদিল্লি। ডিআরডিও (DRDO) বর্তমানে তিনটি ভিন্ন ধরনের মরণঘাতী হাইপারসনিক সিস্টেম নিয়ে কাজ করছে, যা ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
ভারতের হাতে আসছে কোন ৩টি ঘাতক অস্ত্র?
১. ধ্বনি হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকেল (Sonic HGV): এটি ভারতের পরবর্তী প্রজন্মের দূরপাল্লার পারমাণবিক অস্ত্রবাহী ক্ষেপণাস্ত্র। এর গতি ম্যাক ৫ থেকে ৬-এর বেশি। সবথেকে বড় চমক হলো এর পাল্লা— আনুমানিক ১০,০০০ কিলোমিটার! মাঝ আকাশে গতিপথ পরিবর্তনের ক্ষমতা থাকায় একে আটকানো শত্রুপক্ষের অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষেও অসম্ভব।
২. এলআর-এএসএইচএম (LR-ASHM): এটি একটি হাইপারসনিক জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র। মূলত সমুদ্রপথে ভারতের দাপট বাড়াতে এটি তৈরি করা হচ্ছে। ১,৫০০ কিলোমিটার পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্র চলন্ত যুদ্ধজাহাজকেও নির্ভুলভাবে ধ্বংস করতে সক্ষম। এটি ভারতীয় সেনার তিন বাহিনীর জন্যই তৈরি করা হচ্ছে।
৩. ইটি-এলডিএইচসিএম (ET-LDHCM): এটি একটি ভয়ংকর হাইপারসনিক ক্রুজ মিসাইল। এর গতি ম্যাক ৮-এরও বেশি। এটি আকাশ, স্থল বা সমুদ্র— যেকোনো প্ল্যাটফর্ম থেকেই ছোঁড়া যাবে। শব্দের চেয়ে ৮ গুণ দ্রুত গতি এবং দিক পরিবর্তনের ক্ষমতা একে অজেয় করে তুলেছে।
সাফল্যের চাবিকাঠি: স্ক্র্যামজেট ইঞ্জিন এই অসাধ্য সাধনের মূলে রয়েছে ডিআরডিও-র তৈরি স্ক্র্যামজেট ইঞ্জিন। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এই ইঞ্জিনের সফল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। একটানা ১২ মিনিট ধরে এটি কাজ করতে সক্ষম, যা হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের ইতিহাসে এক বিশাল মাইলফলক। এর ফলেই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দীর্ঘক্ষণ উচ্চ গতিতে উড়তে পারবে।
সামরিক শক্তির ভোলবদল ভারত এখন আর পুরনো ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর নির্ভরশীল নয়। বরং এমন প্রযুক্তি তৈরি করছে যা যেকোনো বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Air Defense System) ভেদ করে সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অস্ত্রগুলো সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হলে ভারত বিশ্বের হাতেগোনা কয়েকটি দেশের তালিকায় (যেমন আমেরিকা, রাশিয়া, চীন) প্রথম সারিতে চলে আসবে।