পেট্রোল-ডিজেল নিয়ে বড় ঘোষণা কেন্দ্রের! পকেটে স্বস্তি না কি টান? জেনে নিন আসল সত্যিটা!

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের দামামা বাজলেও ভারতে জ্বালানি নিয়ে আশঙ্কার কোনো কারণ নেই। দেশের আমজনতাকে আশ্বস্ত করে ভারত সরকার জানিয়ে দিল, দেশে পেট্রোল, ডিজেল বা এলপিজি (LPG)—কোনো কিছুরই ঘাটতি নেই। আতঙ্কিত হয়ে জ্বালানি মজুত না করার জন্য দেশবাসীকে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।

রেকর্ড সরবরাহ ও স্বচ্ছতা

সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে রান্নার গ্যাসের সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। গত ১১ এপ্রিল মাত্র একদিনেই দেশে ৫২ লক্ষেরও বেশি গার্হস্থ্য সিলিন্ডার সরবরাহ করা হয়েছে। ডিজিটাল ইন্ডিয়ার প্রভাবে বর্তমানে ৯৮ শতাংশ বুকিং অনলাইনে হচ্ছে, যার ফলে পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় থাকছে।

মজুতদার ও কালোবাজারিদের ওপর ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’

বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি রুখতে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সারা দেশে এ পর্যন্ত ২,৭০০টিরও বেশি অভিযান চালানো হয়েছে। অনিয়মের অভিযোগে ২১৯ জন এলপিজি পরিবেশককে জরিমানা করা হয়েছে এবং ৫৬ জনের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা—কালোবাজারি করলে রেহাই মিলবে না।

তেলের দামে বড় স্বস্তি ও বিকল্প জ্বালানি

জ্বালানি তেলের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে কেন্দ্র সরকার বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর লিটার প্রতি ১০ টাকা আবগারি শুল্ক (Excise Duty) কমানো হয়েছে। এছাড়া শোধনাগারগুলো বর্তমানে তাদের পূর্ণ ক্ষমতায় কাজ করছে।

ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে সরকার এখন বিকল্প জ্বালানির ওপর জোর দিচ্ছে:

  • পাইপলাইনের গ্যাস (PNG): ২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত ৪.২৪ লক্ষ নতুন পিএনজি সংযোগ দেওয়া হয়েছে।

  • ইলেকট্রিক কুকিং: রান্নার ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রসারেও কাজ চলছে দ্রুতগতিতে।

  • কেরোসিন: চাহিদা অনুযায়ী রাজ্যগুলোকে অতিরিক্ত কেরোসিন সরবরাহ করা হচ্ছে।

নিরাপদ সমুদ্রপথ ও ভারতীয় নাবিকদের প্রত্যাবর্তন

সামুদ্রিক বাণিজ্য ও পরিবহণ নিয়েও সরকার স্বস্তির খবর দিয়েছে। ভারতের সমস্ত বন্দরে কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার মধ্যেও ভারতীয় জাহাজ ও নাবিকরা সুরক্ষিত আছেন। সরকার সফলভাবে এ পর্যন্ত ২,০০০-এর বেশি ভারতীয় নাবিককে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে এনেছে।

Editor001
  • Editor001