ভোটের মুখে বঙ্গ বিজেপিতে বড় ধস! মমতার বিরুদ্ধে লড়া নেতাজির বংশধর এবার তৃণমূলে, শুরু নতুন মেরুকরণ।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার ঠিক আগেই বড়সড় চমক দিল ঘাসফুল শিবির। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একদা নির্বাচনী লড়াইয়ে নামা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর প্রপৌত্র চন্দ্র কুমার বসু বিজেপি ছেড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসে (TMC)। রবিবাসরীয় দুপুরে মন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং কীর্তি আজাদের উপস্থিতিতে তাঁর এই দলবদল বাংলার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করল।

ভবানীপুরের সেই প্রতিদ্বন্দ্বী এখন মমতার শিবিরে

২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর আসনে বিজেপির টিকিটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন চন্দ্র বসু। যদিও সেই লড়াইয়ে তিনি পরাজিত হন, কিন্তু এবার সেই ভবানীপুরেই মুখ্যমন্ত্রীর জয়ের পথ প্রশস্ত করতে তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নিলেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে প্রাক্তন বিজেপি প্রার্থীকে দলে টেনে গেরুয়া শিবিরের ওপর বড়সড় মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করল তৃণমূল।

“বিজেপিতে যাওয়া ছিল ভুল সিদ্ধান্ত”

তৃণমূলে যোগ দিয়েই বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন চন্দ্র বসু। তিনি সরাসরি জানান:

“বিজেপিতে যোগ দিয়ে আমি ভুল করেছিলাম, আজ সেই ভুল শুধরে নিলাম। এই দল ভারতের সংবিধান এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিপন্থী। আমি নিজে ভবানীপুরে বিজেপির প্রার্থী ছিলাম, কিন্তু এখন বলছি সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া আর কেউ জিতবে না।”

আরও পড়ুন: [৮ম পে কমিশন: কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের বেসিক পে কতটা বাড়বে? ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের অঙ্কটি বুঝে নিন]

নেতাজির আদর্শ বনাম বিজেপির নীতি

চন্দ্র বসুর অভিযোগ, বিজেপি মুখে নেতাজির নাম নিলেও তাঁর আদর্শে বিশ্বাস করে না। তিনি বলেন, “বিজেপিতে থেকে নেতাজির দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী কাজ করা অসম্ভব ছিল। তাদের আদর্শ বাংলার সংস্কৃতি ও ইতিহাসের সঙ্গে মোটেও খাপ খায় না। দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতেই আমি দিদির হাত ধরলাম।”

আরও পড়ুন: [চার্জারের গায়ে থাকা ‘R’ কোডের রহস্য কী? জানলে চমকে যাবেন আপনিও!]

ভবানীপুরের লড়াই কি আরও একতরফা?

এবারের নির্বাচনেও ভবানীপুর আসনটি অত্যন্ত চর্চিত। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অন্যদিকে বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী— এই হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ের মাঝে চন্দ্র বসুর তৃণমূলে যোগদান নিশ্চিতভাবেই তৃণমূল কর্মীদের বাড়তি অক্সিজেন যোগাবে।

আরও পড়ুন: [বিহারে নতুন সরকারের অপেক্ষা! মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য জেডিইউ-বিজেপি রুদ্ধশ্বাস বৈঠক]