তেলের বাজারে চরম হাহাকার! যুদ্ধবিরতির খবর কি শুধুই আইওয়াশ? ব্যারেল প্রতি প্রিমিয়াম শুনে চোখ কপালে লগ্নিকারীদের।

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের মেঘ আপাতদৃষ্টিতে কিছুটা কাটলেও, বিশ্ব তেলের বাজারে এক ভয়াবহ অস্থিরতা দানা বাঁধছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধবিরতির খবরে শেয়ার বাজারে সাময়িক স্বস্তি ফিরলেও, পর্দার আড়ালে অপরিশোধিত তেল (Crude Oil) দখলের এক অদৃশ্য লড়াই শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ব্যবসায়ীরা এখন আকাশছোঁয়া দামে তেল মজুত করতে মরিয়া।
কাগজে-কলমে শান্তি, বাস্তবে আগুন!
ইকোনমিক টাইমসের এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন বলছে, ফিউচার্স মার্কেট (ভবিষ্যৎ সরবরাহ) এবং ফিজিক্যাল মার্কেটের (তাৎক্ষণিক সরবরাহ) মধ্যে এক অভাবনীয় ফারাক তৈরি হয়েছে। ফিউচার্স মার্কেটে তেলের দাম কমলেও, বাস্তব বাজারে সরবরাহ প্রায় নেই বললেই চলে।
-
হিসাব মেলা ভার: উত্তর সাগরের তেলের বাজারে ৪০টি দরপত্রের বিপরীতে মিলেছে মাত্র ৪টি।
-
অভিনব প্রিমিয়াম: তাৎক্ষণিক সরবরাহের জন্য ব্যবসায়ীরা স্বাভাবিক দামের চেয়ে ব্যারেল প্রতি ২২ থেকে ২৫ ডলার অতিরিক্ত বা ‘প্রিমিয়াম’ দিতেও রাজি। যেখানে ডেটেড ব্রেন্ট ১২৬ ডলারে রয়েছে, সেখানে ফিউচার মূল্য তার থেকে ৩০ ডলার কম। এই বৈষম্যই প্রমাণ করে বাজারের আসল অস্থিরতা।
৪০ দিনের সেই ‘শূন্যতা’ এখন গিলে খাচ্ছে বিশ্বকে
হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনও স্বাভাবিক হয়নি। আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির প্রধান সুলতান আল জাবেরের মতে, যুদ্ধের সময় সরবরাহে যে ৪০ দিনের স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল, তার প্রভাব এখন বিশ্ব হাতেনাতে টের পাচ্ছে। এই ঘাটতি মেটাতে এশীয় দেশগুলো এখন দিকবিদিক ছোটাছুটি করছে।
-
ভারতের পদক্ষেপ: জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত ভেনিজুয়েলা থেকে তেল কেনা দ্বিগুণ করেছে। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেই ভারত ৬০ লক্ষ ব্যারেল তেল বোঝাই করেছে।
-
জাপান ও চীন: জাপান পানামা খাল দিয়ে ছোট জাহাজে করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল আনছে। অন্যদিকে, চীন রেকর্ড পরিমাণে তেল কিনছে কানাডা থেকে।