বিশ্বজুড়ে তেলের হাহাকার? ভেস্তে গেল ইরান-মার্কিন বৈঠক, হরমুজ প্রণালী নিয়ে বড় বিপদে ভারত!

ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলা দীর্ঘ শান্তি আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা আরও জোরালো হলো। ইসলামাবাদে টানা ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর এখন সবার নজর ‘হরমুজ প্রণালী’র দিকে। ইরান এই আন্তর্জাতিক জলপথ অবরুদ্ধ করার বা কর আরোপের যে প্রচ্ছন্ন হুমকি দিচ্ছে, তাকে সরাসরি ‘ব্ল্যাকমেল’ বলে অভিহিত করেছেন সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

UNCLOS আইন ও ইরানের ‘জেদ’

হরমুজ প্রণালী কোনো সাধারণ জলপথ নয়, এটি একটি আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ রুট। সমুদ্র আইন সংক্রান্ত জাতিসংঘ সনদ (UNCLOS) অনুযায়ী, এই প্রণালী দিয়ে পৃথিবীর যে কোনো দেশের জাহাজ বিনা বাধায় যাতায়াত করতে পারে। কিন্তু ইরান এই পথে ‘টোল’ বা শুল্ক আরোপের যে পরিকল্পনা করছে, তা আন্তর্জাতিক আইনের সরাসরি লঙ্ঘন। প্রশ্ন উঠছে, ইরান-মার্কিন দ্বৈরথের চরম মূল্য বাকি বিশ্ব কেন দেবে?

অন্যান্য জলপথও কি তবে বিপদে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান যদি একবার এই পথে গায়ের জোরে শুল্ক আদায় শুরু করে, তবে সারা বিশ্বে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে:

  • মালাক্কা প্রণালী: সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াও যদি পাল্টা কর বসানো শুরু করে, তবে এশিয়ার সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়বে।

  • বাব-এল-মানদেব: ইয়েমেন সংলগ্ন এই পথটি আগে থেকেই অস্থির, যা আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠবে।

  • সুয়েজ খাল: মিশর ইতোমধ্যেই সুয়েজ খালে টোল নেয়, কিন্তু উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে এই খালটিকেও রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন: [আশা ভোঁসলের মৃত্যুর আগে রেখে যাওয়া বিপুল সম্পত্তি! কয়টি দেশে ছড়িয়ে ছিল তাঁর ব্যবসা?]

ভারতের ওপর নেমে আসবে পাহাড়প্রমাণ চাপ

হরমুজ প্রণালীর এই অস্থিরতা ভারতের জন্য অশনিসংকেত। ভারতের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য কেবল ব্যয়বহুলই হবে না, বরং জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখাও কঠিন হয়ে পড়বে।

  • বিকল্প পথ: ভারতকে এখন দ্রুত ‘চাবাহার বন্দর’ এবং ‘INSTC’ প্রকল্পের কাজ শেষ করতে হবে।

  • নৌবাহিনীর ভূমিকা: এই জলপথে ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজ রক্ষা করতে নৌবাহিনীর সক্রিয়তা বহুগুণ বাড়াতে হবে, যা প্রতিরক্ষা বাজেটে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।

আরও পড়ুন: [ট্রেনের ভেতর চাদর দিয়ে বানানো সিট! দেশি এই ‘জুগাড়’ দেখে নেটপাড়া তাজ্জব।]

কেন ব্যর্থ হলো ২১ ঘণ্টার বৈঠক?

ইসলামাবাদে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে ২১ ঘণ্টা আলোচনা চললেও কোনো সমঝোতা হয়নি। মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে অনড় ছিল। আমেরিকার দাবি ইরান মানতে নারাজ, আর ইরানের পাল্টা অভিযোগ—আমেরিকার শর্তগুলো অবাস্তব।