SIR-এ নাম কাটা গেলেও কি ভোট দেওয়া যাবে? মুর্শিদাবাদে দাঁড়িয়ে জট কাটালেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক

“উৎসবের মেজাজে বুথে আসুন, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করুন।” ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে মুর্শিদাবাদ জেলার ভোটারদের ঠিক এই ভাষাতেই উদ্বুদ্ধ করলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়াল। রবিবার জেলায় নির্বাচনী প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে গিয়ে তিনি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি ভোটারদের উপস্থিতির হার বাড়াতে এক অনন্য আবেদন জানান।
পুজোর উদ্দীপনায় ভোট দেওয়ার ডাক
সিইও মনোজ আগরওয়াল মুর্শিদাবাদের মানুষের আবেগকে ছুঁয়ে বলেন, “আপনারা যেমন দুর্গাপুজোর সময় প্রবল উৎসাহ নিয়ে প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঘোরেন, ঠিক সেই একই উৎসাহ নিয়ে ২৩ এপ্রিল ভোটকেন্দ্রে আসুন। নির্বাচন কমিশন সবরকম নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে।” তিনি আরও জানান, জেলায় নির্বাচনের প্রস্তুতি তুঙ্গে। পর্যবেক্ষক এবং পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করা হচ্ছে যাতে মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন।
নাম বাদ পড়া ভোটারদের ভাগ্য কী?
স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR)-এর পর ভোটার তালিকা থেকে যাঁদের নাম বাদ গিয়েছিল, তাঁদের ভোট দেওয়া নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা কাটালেন সিইও। তিনি স্পষ্ট জানান:
-
চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে, কেবল তাঁরাই ভোট দিতে পারবেন।
-
যাঁদের নাম এসআইআর-এ বাদ পড়েছে, তাঁরা যদি ট্রাইব্যুনাল থেকে বৈধ ছাড়পত্র পান, তবেই তাঁদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে এবং তাঁরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
মুর্শিদাবাদে রাহুল গান্ধীর মেগা এন্ট্রি
নির্বাচনী পারদ চড়িয়ে আগামী ১৪ এপ্রিল মুর্শিদাবাদে আসছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। জেলার শমসেরগঞ্জে একটি বিশাল জনসভায় তাঁর ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। কংগ্রেসের এই হেভিওয়েট প্রচার মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।
২৩ এবং ২৯ এপ্রিল— দুই দফায় বাংলার ভাগ্য নির্ধারণ হতে চলেছে। ৪ মে ফলাফল ঘোষণার দিন স্পষ্ট হবে, বাংলার মসনদ কার দখলে যাচ্ছে। ২০২১-এর তৃণমূলের বিপুল জয় বনাম বিজেপির শক্তি বৃদ্ধির লড়াইয়ে এবারের মুর্শিদাবাদ কার্যত ‘ব্যাটলগ্রাউন্ড’ হতে চলেছে।