ইরান-আমেরিকা শান্তি আলোচনায় ব্রাত্য ভারত? ইসলামাবাদের মধ্যস্থতা কি মোদী সরকারের কূটনৈতিক হার? প্রশ্ন তুলল কংগ্রেস

বিশ্ব রাজনীতির নজর এখন পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের দিকে। সেখানে দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শুরু হয়েছে শান্তি আলোচনা। কিন্তু এই আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের অনুপস্থিতি এবং পাকিস্তানের সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে এবার মোদী সরকারকে সরাসরি আক্রমণ করল কংগ্রেস। বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা সালমান খুরশিদ এবং সাংসদ জয়রাম রমেশের দাবি, এই ঘটনা ভারতের পররাষ্ট্রনীতির এক বড়সড় ব্যর্থতা।
সালমান খুরশিদের উদ্বেগ ও প্রশ্ন:
প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী সালমান খুরশিদ এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, আলোচনা সফল না হলে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাবে এবং সমগ্র বিশ্ব এক বিধ্বংসী যুদ্ধের মুখোমুখি হবে। খুরশিদ প্রশ্ন তোলেন, “ইউরোপ থেকে আমেরিকা, এমনকি ইসরায়েলেও যখন সাধারণ মানুষ যুদ্ধের বিরুদ্ধে সরব, তখন কি বিশ্ব নেতৃত্ব আর একটি যুদ্ধ শুরু করার সাহস দেখাবে?” তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ভারত বরাবরই ‘শান্তির দূত’ হিসেবে পরিচিত ছিল, কিন্তু বর্তমান সরকার কেবল ‘নীরব দর্শক’ হয়ে বসে আছে।
মোদীর কূটনীতিতে ‘পাক’ ধাক্কা!
কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশ এই শান্তি প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের ভূমিকাকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্য একটি বড় ‘ধাক্কা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, ট্রাম্প প্রশাসন ও ইরানের মধ্যে ১০-দফা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব কার্যকর করার ক্ষেত্রে ইসলামাবাদ যেভাবে মধ্যস্থতা করেছে, তা ভারতের কূটনৈতিক প্রভাবকে ম্লান করে দিয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর সামরিক অভিযান স্থগিত করেছেন।
ইরান দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতি মেনে নিয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) দিয়ে নিরাপদ যাতায়াতের পথ খুলে দিতে রাজি হয়েছে।
এই পুরো আলোচনার আয়োজক হিসেবে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসা কুড়াচ্ছে।
কংগ্রেসের তোপ:
জয়রাম রমেশের দাবি, যে প্রতিবেশী রাষ্ট্রে ভারতের জোরালো ভূমিকা থাকার কথা ছিল, সেখানে পাকিস্তানের এই সাফল্য মোদী সরকারের বিদেশনীতির অসারতা প্রমাণ করে। ভারতের মতো শক্তিশালী দেশ কেন এই সংকট নিরসনে ইতিবাচক পরামর্শ দিতে ব্যর্থ হলো, তা নিয়ে এখন তোলপাড় রাজনৈতিক মহল।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের এই টানাপোড়েনে ভারত কীভাবে নিজের হৃতগৌরব পুনরুদ্ধার করে, এখন সেটাই দেখার।