পার্থর বাড়িতে সিবিআই-এর পর এবার ইডি! সাতসকালে নাকতলায় ধুন্ধুমার, সঙ্গে বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক মুখে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি-র তৎপরতায় তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। শনিবার সকাল হতেই শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাকতলার বাড়িতে হানা দিলেন ইডি আধিকারিকরা। সঙ্গে রয়েছে বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী। ইডি সূত্রের খবর, এই মামলায় নতুন কিছু তথ্যের সন্ধানেই ফের প্রাক্তন মন্ত্রীর দরজায় পৌঁছেছেন তাঁরা।

সুজিত-পুত্র সমুদ্র হাজির ইডি দপ্তরে:
একদিকে যখন পার্থর বাড়িতে তল্লাশি চলছে, অন্যদিকে পুর-নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নজর রয়েছে বিদায়ী দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর ওপর। ইডি-র পরপর দু’বার তলব সত্ত্বেও অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি থাকায় হাজিরা দিতে পারেননি বিধাননগরের এই তৃণমূল প্রার্থী। তবে বাবার হয়ে নথিপত্র নিয়ে সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিলেন সুজিত-পুত্র সমুদ্রে বসু। এর আগে ২০২৩ সালেও সুজিতবাবুর বাড়ি, অফিস ও ছেলের রেস্তোরাঁয় তল্লাশি চালিয়েছিল কেন্দ্রীয় সংস্থা।

রথীন ঘোষকেও তলব:
তদন্তের জাল ছড়িয়েছে মধ্যমগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী তথা বিদায়ী খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষের ওপরেও। পুর-নিয়োগ মামলায় গত বুধবার তাঁকে তলব করা হলেও তিনি হাজিরা দেননি। ফলে ভোটের লড়াইয়ের মাঝেই মন্ত্রীদের ওপর ইডির এই চাপ রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা তৈরি করেছে।

‘ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র’, সরব সুজিত বসু:
তদন্তের এই অতি-সক্রিয়তাকে বিজেপির ‘ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র’ বলে তোপ দেগেছেন সুজিত বসু। তাঁর বক্তব্য, অভিযুক্তদের তালিকায় তাঁর নাম না থাকা সত্ত্বেও ভোটের আগে ইডি, সিবিআই এবং নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে তাঁকে হেনস্থা করা হচ্ছে। ২৩ সালের পুরনো কেসে ভোটের মুখে নোটিস দেওয়াকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবেই দেখছেন তিনি।

কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে নাকতলা:
শনিবার সকাল থেকেই পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা বাড়িটি ঘিরে রেখেছেন। তদন্তকারীরা ঘরের ভেতরে নথিপত্র খতিয়ে দেখছেন। নিয়োগ দুর্নীতির শিকড় কত গভীরে, তা বের করতেই ইডির এই তৎপরতা বলে মনে করা হচ্ছে।