পেট্রোল বাইক-অটো কি এবার অতীত? দিল্লিতে বড় ঘোষণা! ২০২৭ থেকে চালু হচ্ছে কড়া নিয়ম, আপনার গাড়ির কী হবে?

দূষণে জেরবার রাজধানীকে বাঁচাতে এবার ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিতে চলেছে দিল্লি সরকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘ইলেকট্রিক ভেহিকল (EV) নীতি ২০২৬-২০৩০’-এর খসড়া। এই নতুন নীতিতে পেট্রোল ও ডিজেল চালিত যানবাহনের ওপর কড়া বিধিনিষেধ আরোপের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে বিপুল ছাড় ও ভর্তুকির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বন্ধ হবে নতুন পেট্রোল অটো ও বাইক:
দিল্লি সরকারের প্রস্তাবিত এই খসড়ায় স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে রূপান্তরের সময়সীমা:

২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি: এরপর থেকে দিল্লিতে নতুন কোনো পেট্রোল চালিত থ্রি-হুইলার বা অটোরিকশার রেজিস্ট্রেশন হবে না। শুধুমাত্র ইলেকট্রিক অটোই রাস্তায় নামানো যাবে।

২০২৮ সালের ১ এপ্রিল: এই তারিখের পর থেকে নতুন কোনো পেট্রোল চালিত দুই চাকার যান (বাইক বা স্কুটি) কেনা বা চালানো যাবে না। অর্থাৎ, দুই চাকার বাজার হবে ১০০% ইলেকট্রিক।

অ্যাপ-ভিত্তিক ক্যাব ও বাণিজ্যিক গাড়িতে কড়াকড়ি:
জুমাটো, সুইগি বা উবের-এর মতো বাণিজ্যিক সংস্থাগুলোর ওপর কোপ পড়ছে সবথেকে আগে। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকেই কোনো নতুন পেট্রোল/ডিজেল চালিত কমার্শিয়াল টু-হুইলার বা ৩.৫ টন পর্যন্ত ওজনের মালবাহী গাড়ি নামানো যাবে না। বর্তমানে ব্যবহৃত BS-VI (বিএস-৬) মানের বাইকগুলোও বড়জোড় ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চালানোর অনুমতি পাবে।

ভর্তুকি ও ইনসেনটিভের ডালি:
সাধারণ মানুষকে ইভি-র প্রতি উৎসাহিত করতে সরকার কোষাগার খুলে দিচ্ছে:

টু-হুইলার: ২.২৫ লক্ষ টাকার নিচের বৈদ্যুতিক বাইক/স্কুটিতে ব্যাটারির ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে মোটা অঙ্কের ভর্তুকি মিলবে।

ফোর-হুইলার: নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে ইলেকট্রিক গাড়িতে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ইনসেনটিভ পাওয়া যাবে।

স্ক্র্যাপেজ বোনাস: পুরনো গাড়ি বাতিলের জন্য ১০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আলাদা সুবিধা দেওয়া হবে।

ট্যাক্স ফ্রি: যোগ্য বৈদ্যুতিক যানবাহনের ক্ষেত্রে রোড ট্যাক্স এবং রেজিস্ট্রেশন ফি ১০০% মকুব করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

স্কুল বাস ও সরকারি বহর:
ব্যক্তিগত গাড়ির পাশাপাশি সরকারি স্তরেও বড় বদল আসছে। ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত ৩০% স্কুল বাসকে ইলেকট্রিক করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারের কেনা বা ভাড়া নেওয়া সমস্ত নতুন যানবাহন এখন থেকে ১০০% ইলেকট্রিক হতে হবে। ভবিষ্যতে হাইড্রোজেন প্রযুক্তির ব্যবহারের পথও খোলা রাখা হয়েছে এই খসড়ায়।

আপনার মতামত জানান:
দিল্লি সরকারের পরিবহন দফতর আগামী ৩০ দিন এই খসড়াটি সাধারণ নাগরিক ও বিশেষজ্ঞদের পর্যালোচনার জন্য রেখেছে। এরপরই এটি চূড়ান্ত আইনে পরিণত হবে। মূলত শীতকালীন ভয়াবহ বায়ুদূষণ মোকাবিলা করতেই কেজরিওয়াল সরকারের এই ‘গ্রিন মিশন’।