বাংলায় বিজেপির ‘ডাবল ইঞ্জিন’ প্রচার! কালনায় ৪৪ বছরের রেকর্ড ভাঙলেন মোদি, শাহের নিশানায় কোন জেলা?

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের পারদ সপ্তমে চড়িয়ে আজ বাংলায় ‘গেরুয়া ঝড়’। একই দিনে ময়দানে নেমেছেন বিজেপির দুই প্রধান সেনাপতি— প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দিল্লি থেকে উড়ে এসে আজ রাজ্যের একাধিক প্রান্তে জনসভা করছেন তাঁরা।

কালনায় ৪৪ বছরের রেকর্ড ভাঙলেন মোদি:
আজকের দিনের সবথেকে বড় চমক কালনার জনসভা। ১৯৮২ সালের পর এই প্রথম কোনো দেশের প্রধানমন্ত্রী কালনায় পা রাখলেন। কালনা ১ নম্বর ব্লকের সিমলনে আয়োজিত এই জনসভায় মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি স্থানীয় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা তৈরি করেছে।

লক্ষ্য মুর্শিদাবাদের ৬ আসন:
কালনার পর মোদির গন্তব্য সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর। এই প্রথম মুর্শিদাবাদের মাটিতে পা রাখছেন প্রধানমন্ত্রী। ২০২১ নির্বাচনে এই জেলায় দুটি আসন পেয়েছিল বিজেপি। এবার গেরুয়া শিবিরের লক্ষ্য নবাবের গড়ে অন্তত ৬টি আসনে জয়লাভ করা। সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসাতে মোদির এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

দিনের শেষে উত্তরবঙ্গ সফর:
মুর্শিদাবাদের পালা চুকিয়ে প্রধানমন্ত্রী উড়ে যাবেন দক্ষিণ দিনাজপুরের কুশমণ্ডিতে। সেখানে দুই দিনাজপুর ও মালদা জেলার বিজেপি প্রার্থীদের সমর্থনে মেগা জনসভা করবেন তিনি। উত্তরবঙ্গ বরাবরই বিজেপির শক্ত ঘাঁটি, তাই সেখানে জনসমর্থন ধরে রাখতে কোনো খামতি রাখতে চাইছেন না মোদি।

শাহের হুঙ্কার:
একদিকে যখন প্রধানমন্ত্রী জনসভা করছেন, অন্যদিকে রাজ্যের অন্য প্রান্তে নির্বাচনী প্রচারে ঝড় তুলছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মূলত রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা এবং অনুপ্রবেশ ইস্যুতে মমতা সরকারকে বিঁধছেন তিনি।

উপসংহার:
বিজেপির দুই শীর্ষ নেতার এই ‘ম্যারাথন’ প্রচার শাসকদল তৃণমূলের ওপর চাপ বাড়াবে কি না, তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। তবে কালনা থেকে কুশমণ্ডি— প্রধানমন্ত্রীর প্রতিটি কথা এখন রাজ্য রাজনীতির উত্তাপ বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েক গুণ।