‘একজন ১টি আর অন্যজন ৪টি বিয়ে করবে— এটা হতে পারে না!’ বঙ্গে ক্ষমতায় এলে ৬ মাসেই UCC চালু করার হুঙ্কার অমিত শাহের

বিজেপির সংকল্প পত্র প্রকাশের পর এক হাই-ভোল্টেজ সাংবাদিক বৈঠকে শাহ স্পষ্ট করে দিলেন, বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় এলে কোনো রকম ‘তুষ্টিকরণ’ বরদাস্ত করা হবে না।
UCC চালু করার ডেডলাইন:
তুষ্টিকরণের রাজনীতি প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে অমিত শাহ অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC)-র প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন:
“দেশে আইন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। কেউ একটা বিয়ে করবে আর কেউ চারটে বিয়ে করবে— এটা কোনো আধুনিক সমাজে হতে পারে না। আমি আজ কথা দিচ্ছি, বাংলায় বিজেপি সরকার গঠনের ছয় মাসের মধ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি লাগু করা হবে।”
হুমায়ূন কবীরের ‘ভাইরাল ভিডিও’ ও শাহের প্রতিক্রিয়া:
সম্প্রতি তৃণমূলের পক্ষ থেকে একটি ১৯ মিনিটের ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে প্রাক্তন তৃণমূল নেতা (বর্তমানে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা) হুমায়ূন কবীর বিজেপির সঙ্গে ১০০০ কোটি টাকার চুক্তি করেছেন। এই প্রসঙ্গে অমিত শাহের কটাক্ষ:
ভিডিওর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন: শাহ বলেন, “আপনারা বোধহয় মমতা দিদির প্রতিভা সম্পর্কে জানেন না। উনি চাইলে এইরকম আরও ২০০০ ভিডিও তৈরি করে দিতে পারেন।”
উত্তর-দক্ষিণ মেরু তত্ত্ব: তিনি আরও যোগ করেন, “হুমায়ূন কবীর আর বিজেপি হলো উত্তর মেরু আর দক্ষিণ মেরুর মতো। আমরা কখনও এক হতে পারি না। বিজেপি ২০ বছর বিরোধী আসনে বসবে, তবুও বাংলায় বাবরী মসজিদ বানাতে চাওয়া শক্তির সঙ্গে হাত মেলাবে না।”
বিজেপির ‘জিরো টলারেন্স’ বার্তা:
অমিত শাহ স্পষ্ট করেন যে, অনুপ্রবেশ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিজেপির লড়াই চলবে। তিনি বলেন, “তৃণমূল ভয় দেখাচ্ছে যে বিজেপি এলে মাছ-ভাত খাওয়া বন্ধ করে দেবে। আমি পরিষ্কার বলছি, মানুষের খাদ্যাভ্যাসে বিজেপি হস্তক্ষেপ করবে না, কিন্তু তোষণ আর দুর্নীতির রাস্তা আমরা বন্ধ করবই।”
আজকের প্রেস কনফারেন্সের ৩টি মূল পয়েন্ট:
বাংলায় UCC: ক্ষমতায় আসার ৬ মাসের মধ্যে কার্যকর করার অঙ্গীকার।
সপ্তম বেতন কমিশন: ৪৫ দিনের মধ্যে সরকারি কর্মচারীদের ডিএ মিটিয়ে সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করা।
বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী: শাহ নিশ্চিত করেছেন যে, বিজেপি জিতলে বাংলার কোনো ভূমিপুত্রই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হবেন।