হরমুজ সংকটে ভারতের পাল্টা চাল! এলপিজি আমদানিতে কোপ, যুদ্ধের মাঝেই দেশীয় উৎপাদনে বড় রেকর্ড মোদি সরকারের

হরমুজ প্রণালী নিয়ে আমেরিকা-ইরান টানাপোড়েন আর পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ-উত্তেজনায় যখন সারা বিশ্বের অর্থনীতি ক্ষতবিক্ষত, তখন ভারতের জন্য এল এক স্বস্তির খবর। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কার মাঝেই এলপিজি (LPG) উৎপাদনে অভাবনীয় সাফল্য পেল ভারত।

আমদানি কমিয়ে দেশীয় উৎপাদনে জোর
এতদিন ভারত তার এলপিজি চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ কাতারসহ পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলো থেকে আমদানি করত। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সেই নির্ভরতা কমিয়ে দেশেই উৎপাদন বাড়ানোর পথে হাঁটে কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের দাবি, বর্তমানে দেশের মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশই দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে পূরণ করা হচ্ছে— যা আগে ছিল মাত্র ৪০ শতাংশ।

পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের অভয়বাণী
মন্ত্রকের যুগ্মসচিব সুজাতা শর্মা জানিয়েছেন, দেশে অপরিশোধিত তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। রিফাইনারিগুলো এখন তাদের সর্বোচ্চ ক্ষমতায় কাজ করছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদন কিছুটা কমিয়ে রিফাইনারিগুলোকে এলপিজি উৎপাদন বাড়ানোর বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরিসংখ্যান এক নজরে:

২০২৫-২৬ অর্থবর্ষ: মোট এলপিজি ব্যবহার ছিল ৩৩.২১ মিলিয়ন টন।

ব্যবহার হ্রাস: জানুয়ারির তুলনায় মার্চ মাসে এলপিজি ব্যবহার প্রায় ২৬.৬ শতাংশ কমেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুদ্ধের কারণে মানুষ সতর্ক হওয়ায় বা বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ায় এই প্রবণতা।

সুরক্ষিত গ্রাহক: দেশে ৩৩ কোটির বেশি গৃহস্থালির জন্য ১০০ শতাংশ এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করেছে সরকার। তবে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে সরবরাহে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ রাখা হয়েছে।

কাতার সফর ও হরদীপ সিং পুরীর সাফল্য
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্প্রতি কাতার সফরে গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী। সেখানে কাতারের জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। কাতার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতি থাকলেও ভারতে এলপিজি সরবরাহ সচল রাখতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

হরমুজ প্রণালীর সংকটের মধ্যেও ভারতের বন্দরে একাধিক গ্যাস ও তৈলবাহী জাহাজ এসে পৌঁছানো এবং দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি— এই দুই মিলিয়ে ভারত এখন জ্বালানি কূটনীতিতে অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।