আমেরিকায় সন্তান জন্ম দিতেই পকেট ফাঁকা! সাধারণ প্রসবের বিল দেখে মাথায় হাত মহিলার, খরচ শুনলে চমকে যাবেন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত দেশে জীবনযাপন স্বপ্নের মতো মনে হলেও, সেখানকার স্বাস্থ্যসেবার খরচ সাধারণ মানুষের ঘুম কেড়ে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট। সম্প্রতি জেস স্পল্ডিং নামের এক আমেরিকান মহিলার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ভারতের মতো দেশগুলোর মানুষের চোখ কপালে তুলে দিয়েছে। সন্তান জন্ম দেওয়ার পর হাসপাতালের যে বিল তিনি হাতে পেয়েছেন, তা এখন ইন্টারনেটে ঝড়ের বেগে ভাইরাল।

স্বাভাবিক প্রসব, অস্বাভাবিক বিল!

জেস জানান, তাঁর সন্তান প্রসব ছিল একদম স্বাভাবিক (Normal Delivery)। ভারতে যেখানে সরকারি হাসপাতালে এই প্রক্রিয়া নিখরচায় এবং বেসরকারি হাসপাতালেও কয়েক হাজারে হয়ে যায়, সেখানে জেসের বিল এসেছে আকাশছোঁয়া। বীমা (Insurance) থাকার পরেও শুধুমাত্র লেবার রুম এবং প্রসব-পরবর্তী যত্নের জন্য তাঁকে নিজের পকেট থেকে দিতে হয়েছে প্রায় ৬,৭৯০ ডলার— ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৬ থেকে ৭ লক্ষ টাকা!

আসল খরচ ১৫ লাখ ছাড়িয়েছে!

জেস তাঁর পোস্টে ব্যাখ্যা করেছেন যে, বীমা সংস্থা বড় অংশ দিলেও মোট বিল দাঁড়িয়েছিল ১৬,০০০ ডলার বা প্রায় ১৩ থেকে ১৫ লক্ষ টাকার বেশি। জেসের কথায়,

“অবাক করার বিষয় হলো, সন্তান প্রসবের পর হাসপাতাল থেকে একের পর এক নতুন বিল আসতেই থাকে। এই চক্রের শেষ কোথায়?”

কেন এত খরচ আমেরিকায়?

মার্কিন স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার জটিলতার কারণে একটি বাচ্চার জন্মের জন্য পরিবারগুলোকে বছরের পর বছর ঋণের বোঝা বইতে হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে:

  • গড় খরচ: আমেরিকায় গর্ভাবস্থা থেকে প্রসব পর্যন্ত গড় খরচ ২০,০০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়।

  • সি-সেকশন: সিজারিয়ান ডেলিভারির ক্ষেত্রে এই বিল ২৮,০০০ থেকে ৩০,০০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

  • জটিল বিলিং: হাসপাতালের রুম ভাড়া, ডাক্তারের ফি, অ্যানেস্থেসিয়া এবং নবজাতকের যত্নের জন্য আলাদা আলাদা বিল পাঠানো হয়, যা কয়েক মাস ধরে চলতেই থাকে।

মাত্র ২ ঘণ্টার লড়াই, বছরের পর বছর দেনা!

জেসের ক্ষেত্রে প্রসব হতে সময় লেগেছিল মাত্র ২ ঘণ্টা, কিন্তু সেই সামান্য সময়ের জন্য তাঁকে লক্ষ লক্ষ টাকা গুনতে হচ্ছে। এই ঘটনাটি আমেরিকার চিকিৎসা ব্যবস্থার অন্ধকার দিকটি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। বীমা না থাকলে এই খরচ ১৫,০০০ ডলারের গণ্ডিও পার করে যায়। এই কারণেই অনেক আমেরিকান দম্পতি সন্তান নেওয়ার অন্তত এক বছর আগে থেকেই টাকা জমাতে শুরু করেন।