২০-৩০ এর কোঠাতেই হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি! শরীরে কোলেস্টেরল বাড়লে এই ৫টি লক্ষণ দেবে বিপদের সংকেত

সময় বদলেছে, বদলেছে রোগের ধরণও। যে মরণব্যাধি আগে ৫০ বা ৬০ বছর বয়সের পর হানা দিত, এখন তা থাবা বসাচ্ছে ২০ বা ৩০-এর তরুণদের শরীরে। যার মধ্যে সবথেকে ভয়ংকর হলো উচ্চ কোলেস্টেরল। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন আর ফাস্ট ফুডের নেশা তরুণ প্রজন্মকে হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হলো, উচ্চ কোলেস্টেরলকে বলা হয় ‘সাইলেন্ট কিলার’ বা নীরব ঘাতক। কারণ, এর প্রাথমিক লক্ষণগুলো চট করে বোঝা যায় না। তবে আপনার শরীরে যদি নিচের ৫টি পরিবর্তন লক্ষ্য করেন, তবে এখনই সাবধান হওয়া প্রয়োজন।

বিপদের ৫টি প্রাথমিক লক্ষণ:

  • অস্বাভাবিক ক্লান্তি: কোনো পরিশ্রম ছাড়াই সারাদিন ঝিমুনি বা দুর্বলতা বোধ করা।

  • শ্বাসকষ্ট: সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় বা সামান্য জোরে হাঁটলে অস্বাভাবিক হাঁপিয়ে যাওয়া।

  • হাত-পায়ে ঝিনঝিন: শিরায় চর্বি জমার ফলে রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হয়, যার ফলে হাত বা পা অসাড় বা ঝিনঝিন করতে পারে।

  • বুকে অস্বস্তি: মাঝে মাঝে বুকে হালকা চাপ অনুভব করা ভবিষ্যতে বড় হৃদরোগের সংকেত হতে পারে।

  • চোখের পাশে হলদেটে দাগ: চোখের পাতার চারপাশে ছোট ছোট হলদেটে ফুসকুড়ি বা দাগ (Xanthoma) কোলেস্টেরল বাড়ার অন্যতম প্রধান লক্ষণ।

কেন বাড়ছে এই ঝুঁকি?

বিশেষজ্ঞদের মতে, পিজ্জা-বার্গাের থাকা ট্রান্স ফ্যাট সরাসরি রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া ঘণ্টার পর ঘণ্টা ডেস্কে বসে কাজ করা, শরীরচর্চার অভাব এবং পেশাগত মানসিক চাপ (Stress) শরীরের মেটাবলিজম কমিয়ে এই মরণব্যাধিকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে।

বাঁচার উপায় কী?

১. খাদ্যাভ্যাস বদলান: ওটস, সবুজ শাকসবজি এবং ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার খান। ভাজাভুজি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার থেকে দূরে থাকুন। ২. সচল থাকুন: প্রতিদিন অন্তত ৩০-৪০ মিনিট হাঁটাহাঁটি বা কার্ডিও ব্যায়াম করুন। এটি ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতে সাহায্য করে। ৩. ওজন নিয়ন্ত্রণ: শরীরের বিএমআই (BMI) স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করুন। ৪. চেকআপ: আপনার বয়স ২০ বছর পেরিয়ে গেলে বছরে অন্তত একবার লিপিড প্রোফাইল টেস্ট করানো জরুরি।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: মনে রাখবেন, সুস্থ হার্টই দীর্ঘ জীবনের চাবিকাঠি। তাই আজকের ছোট ছোট অভ্যাসগুলোই আপনার আগামীর সুস্থতা নিশ্চিত করবে। যেকোনো চিকিৎসা বা ডায়েট পরিবর্তনের আগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অবশ্যই নিন।