“নির্বাচন এলেই ১৫ লক্ষের জুমলা!” লক্ষ্মীর ভাণ্ডার কি বন্ধ হবে? সব জল্পনা উড়িয়ে বড় ঘোষণা তৃণমূল নেত্রীর!

নির্বাচনী জনসভা থেকে ফের একবার ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ এবং ‘১৫ লক্ষ টাকা’ ইস্যুতে বিজেপিকে তুলোধোনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একদিকে রাজ্যের জনপ্রিয় প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ নিয়ে মহিলাদের আশ্বস্ত করা, অন্যদিকে কেন্দ্রের পুরনো প্রতিশ্রুতি মনে করিয়ে দিয়ে গেরুয়া শিবিরকে আক্রমণ— দুই অস্ত্রেই আজ সুর চড়ালেন তৃণমূল নেত্রী।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে বড় গ্যারান্টি
বিজেপি ক্ষমতায় এলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ হয়ে যাবে— বিরোধীদের এই প্রচারের পাল্টা জবাব দিয়ে মমতা এদিন স্পষ্ট জানান, “যতদিন আমি আছি, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার কেউ বন্ধ করতে পারবে না। মা-বোনেরা নিশ্চিন্তে থাকুন, এই টাকা আপনারা আজীবন পাবেন।” তিনি আরও যোগ করেন, এই প্রকল্প কেবল সাহায্য নয়, এটি বাংলার মহিলাদের সম্মানের প্রতীক।
বিজেপির ‘১৫ লক্ষ’ নিয়ে উপহাস
২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে নরেন্দ্র মোদীর সেই বহুল চর্চিত ‘১৫ লক্ষ টাকা’র প্রতিশ্রুতির কথা মনে করিয়ে দিয়ে মমতা কড়া আক্রমণ শানান। তিনি বলেন, “ওরা বলেছিল প্রত্যেকের অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা দেবে, পেয়েছেন কেউ? এক পয়সাও দেয়নি। ওটা ছিল জুমলা!” তাঁর দাবি, বিজেপি কেবল ভোটের সময় বড় বড় মিথ্যে কথা বলে, কিন্তু তৃণমূল যা কথা দেয় তা কাজে করে দেখায়।
বিজেপিকে আক্রমণ
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, বিজেপি বাংলার উন্নয়ন চায় না, বরং প্রতিহিংসার রাজনীতি করে রাজ্যের টাকা আটকে রেখেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যারা মানুষের প্রাপ্য টাকা দেয় না, তারা আবার কোন মুখে ভোট চাইতে আসে?” সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে তিনি বলেন যে, বিজেপি কেবল প্রতিশ্রুতি দিতে জানে, কিন্তু বিপদের সময় তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না।
রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো সফল প্রকল্পকে ঢাল করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একদিকে যেমন নিজের জনভিত্তি মজবুত রাখছেন, অন্যদিকে বিজেপির পুরনো অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। ভোটের আগে এই ‘টাকা বনাম উন্নয়ন’ বিতর্ক যে আরও তীব্র হবে, তার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলল মুখ্যমন্ত্রীর এদিনের বার্তায়।