এলপিজি সিলিন্ডার নিয়ে খুশির খবর! বুকিং ও ডেলিভারিতে বড় বদল আনল কেন্দ্র, ভোগান্তি কমবে গ্রাহকদের

বর্তমান আন্তর্জাতিক অস্থিরতার আবহে জ্বালানি সংকট নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। সেই উদ্বেগ দূর করতে বড় ঘোষণা করল কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক। সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, দেশে পেট্রোল, ডিজেল এবং এলপিজি-র (LPG) সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক এবং আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
বুকিং ও ডেলিভারিতে কী কী বদল এল?
সরকার সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ কমাতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে:
-
বুকিংয়ের সময়সীমা বৃদ্ধি: শহর এলাকায় গ্যাস বুকিংয়ের সময়সীমা ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়েছে। গ্রামীণ এলাকার ক্ষেত্রে এই সময়সীমা এখন ৪৫ দিন। এতে ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেমে ভারসাম্য বজায় থাকবে।
-
অগ্রাধিকার ভিত্তিক সরবরাহ: ঘরোয়া চাহিদা মেটাতে এলপিজি ও পিএনজি সরবরাহকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে।
-
কারচুপি রোধে ডিজিটাল ব্যবস্থা: বর্তমানে দেশের ৯৫ শতাংশ বুকিং অনলাইনে হচ্ছে। এছাড়া, ৯১ শতাংশ ডেলিভারি হচ্ছে DAC (Delivery Authentication Code) পদ্ধতির মাধ্যমে, যা গ্যাসের কালোবাজারি ও সিলিন্ডার থেকে গ্যাস চুরি রুখতে সাহায্য করছে।
স্বাভাবিক সরবরাহের তথ্য: গত ৭ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে একদিনে রেকর্ড ৫৩.৫ লাখ ঘরোয়া সিলিন্ডার সরবরাহ করা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, দেশের কোথাও গ্যাসের ঘাটতি নেই। যারা অবৈধভাবে গ্যাস জমা করছে বা কালোবাজারি করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই কয়েক হাজার সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং অসাধু ডিস্ট্রিবিউটারদের সাসপেন্ড করা হয়েছে।
বিকল্প জ্বালানিতে জোর: এলপিজি-র ওপর চাপ কমাতে কেরোসিন ও কয়লার মতো বিকল্প জ্বালানির ব্যবহারকেও উৎসাহিত করছে কেন্দ্র। পাশাপাশি রাজ্যগুলিকে নতুন ঘরোয়া ও বাণিজ্যিক এলপিজি কানেকশন দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বার্তায় সরকার: গুজবে কান দেবেন না। প্রয়োজনের অতিরিক্ত গ্যাস বুক করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করবেন না। সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে সরকার সবরকম ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।