রাজনীতির মঞ্চে ৬৫ বছরের অতীত! মালবাজারে মিঠুনকে জড়িয়ে ধরে কাঁদলেন শৈশবের দিদি, আবেগঘন মহাগুরুও

রাজনীতির তপ্ত রোদ, চারদিকে হাজার হাজার মানুষের ভিড় আর গগনভেদী স্লোগান— তার মাঝেই যেন হঠাৎ করে থমকে গেল সময়! মালবাজারে বিজেপির রোড-শো করতে এসে মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তী ফিরে গেলেন তাঁর ৬৫ বছর আগের শৈশবে। নিরাপত্তার কড়াকড়ি সরিয়ে তিনি বুকে জড়িয়ে ধরলেন তাঁর ছোটবেলার ‘জ্যোৎস্না দিদি’-কে।
কে এই জ্যোৎস্না পাল? কলকাতার জোড়াবাগান-পাথুরিয়াঘাটার গলিতে মিঠুন তখন শুধুই ‘গৌরাঙ্গ’। সেই পাড়াতেই জ্যোৎস্নাদেবীর মামার বাড়ি। মিঠুনের বন্ধু বাবলু আইচ ছিলেন জ্যোৎস্নাদেবীর মামাতো ভাই। সেই সূত্রে তাঁদের বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত ছিল কিশোর গৌরাঙ্গের। পাড়ার সরস্বতী পুজোয় গৌরাঙ্গের সেই বিখ্যাত নাচ আজও চোখে ভাসে জ্যোৎস্নাদেবীর। সময়ের স্রোতে আজ তিনি মালবাজারের বাসিন্দা।
সেই নাটকীয় মুহূর্ত: মালবাজারে মিঠুন আসছেন শুনেই আর স্থির থাকতে পারেননি বৃদ্ধা জ্যোৎস্না পাল। ছেলেদের কাছে জেদ ধরেন, “একবার গৌরাঙ্গকে দেখব!” মালবাজার টুরিস্ট লজে এক ঘণ্টা অপেক্ষার পর খবর পৌঁছায় মিঠুনের কানে— “আপনার ছোটবেলার বন্ধু বাবলুর দিদি দেখা করতে এসেছেন।” শোনা মাত্রই ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন মহাগুরু।
আবেগের আলিঙ্গন: সামনে সাদা শাড়ি পরা বৃদ্ধা জ্যোৎস্নাকে দেখেই দু-হাত বাড়িয়ে জাপটে ধরেন মিঠুন। মহাগুরুর গলায় তখন শুধুই বিস্ময় আর আবেগ— “কতদিন পর তোমায় দেখলাম!” লবিতে উপস্থিত তখন সবাই স্তব্ধ। কোনও ক্যামেরা বা লাইমলাইটের জন্য নয়, এই আলিঙ্গন ছিল সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত, যা নিছকই শৈশবের সেই ফেলে আসা দিনগুলোর টানে।
স্মৃতির মিছিলে ফেরা: নিরাপত্তার বলয় আর রাজনৈতিক ব্যস্ততা ক্ষণিকের জন্য সরিয়ে মিঠুন তখন শুধুই পাড়ার ছেলে গৌরাঙ্গ। জ্যোৎস্নাদেবীর চোখে তখন জল, মুখে কথা সরছে না। হয়তো অনেক কথা জমে ছিল, কিন্তু মেগাস্টারের ব্যস্ততায় তা আর বলা হলো না। একটু পরেই আবার রাজনীতির কর্মসূচিতে ফিরে গেলেন মিঠুন। আর জ্যোৎস্নাদেবী সাদা শাড়ির আঁচলে চোখ মুছতে মুছতে ভিড়ে হারিয়ে গেলেন তাঁর ‘গৌরাঙ্গ’কে দেখার তৃপ্তি নিয়ে।
মালবাজারের এই রোড-শো রাজনীতিকে ছাপিয়ে এদিন বড় হয়ে উঠল এক মানবিক সম্পর্কের গল্প হিসেবে।