হিমন্তের স্ত্রীকে নিয়ে মন্তব্য, পবনকে আগাম জামিন দিল হাইকোর্ট পবন দাবি করেন, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার স্ত্রী রিণিকি শর্মা তিন দেশের নাগরিক ৷ এই মন্তব্যের জন্য তাঁর নামে এফআইআর দায়ের হয় ৷ Pawan Khera কংগ্রেস নেতা পবন খেরা (ইটিভি ভারত) author img By ETV Bharat Bangla Team Published : April 10, 2026 at 5:26 PM IST 2 Min Read Choose ETV Bharat হায়দরাবাদ, 10 এপ্রিল: কংগ্রেস নেতা পবন খেরার আগাম জামিন মঞ্জর করল তেলেঙ্গানা হাইকোর্ট ৷ আগামী সাতদিনের মধ্যে তাঁকে গ্রেফতার করা যাবে না বলে জানিয়েছে আদালত ৷ শুক্রবার বিচারপতি সুজানা কালাইসিকমের পর্যবেক্ষণ, পবনের বিরুদ্ধে থাকা এফআইআর প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট হাইকোর্টে আবেদন করার জন্য তাঁকে সাতদিন সময় দেওয়া হচ্ছে ৷ এরমধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না ৷ গত রবিবার দিল্লিতে কংগ্রেসর সদর দফতর থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করে পবন দাবি করেন, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার স্ত্রী রিণিকি শর্মা তিন দেশের নাগরিক ৷ পাশাপাশি তিনি দুবাইয়ে বিপুল সম্পত্তির মালিক ৷ কিন্তু সেই তথ্য নির্বাচনী হলফনামায় উল্লেখ করেননি হিমন্ত ৷ এরপর পবনের বিরুদ্ধে এফআইআর করেন রিণিকি ৷ সেই ঘটনায় দিল্লিতে কংগ্রেস নেতার বাড়িতে যায় অসম পুলিশ ৷ কিন্তু তিনি বাড়িতে ছিলেন না ৷ তখনই শোনা গিয়েছিল তিনি কংগ্রেস শাসিত কোনও একটি রাজ্যে আছেন ৷ এরপর তেলেঙ্গানা হাইকোর্টে আগাম জামিন চেয়ে আবেদন করেন পবন ৷ সেই মামলায় শুক্রবার তাঁর আগাম জামিনের আবেদন মঞ্জুর করে আদালত ৷ তেলেঙ্গানা কংগ্রেসের নেতা তথা আইনজীবী পুনম অশোক জানিয়েছেন, পবনের আবেদন গ্রহণ করেছে আদালত ৷ সেদিনের সাংবাদিক সম্মেলন থেকে পবনের অভিযোগ ছিল, রিণিকির কাছে ভারতের পাশাপাশি আরব, অ্য়ান্টিগা এবং বারবুডার পাসপোর্ট আছে ৷ কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে কংগ্রেস নেতা সেদিন প্রশ্ন করেন, ভারতে দ্বৈত নাগরিকত্ব কি বৈধ ? এ প্রসঙ্গে হিমন্তকে কটাক্ষ করে পবন বলেন, “তিনি ভারতীয় মুসলিমদের দেশের প্রতি আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ৷ কিন্তু তাঁর স্ত্রীর কাছেই মুসলিম প্রধান দেশের পাসপোর্ট থাকে ৷ ” পাশাপাশি এই সাংবাদিক সম্মেলন থেকে মুখ্যমন্ত্রী জায়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও করেন হাত শিবিরের এই প্রবীণ নেতা ৷ তাঁকে বলতে শোনা যায় রিঙ্কির নামে দুবাইতেও সম্পত্তি আছে ৷ কিন্তু নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হলফনামায় সেসবের কোনও উল্লেখ মুখ্যমন্ত্রী করেননি ৷ পবনের অভিযোগ প্রসঙ্গে সেদিন থেকে লাগাতার কড়া আক্রমণ করে চলেছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী ৷ পবনকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা থেকে শুরু করে সামগ্রিকভাবে কংগ্রেসকে একাধিকবার নিশানা করেছেন তিনি ৷ রবিবারই অসমের বিশ্বনাথ চারালি জেলায় সভা করতে গিয়ে হিমন্তকে দেশের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত মুখ্যমন্ত্রী বলে নিশানা করেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি ৷ এ নিয়েও প্রতিক্রিয়া দেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী ৷ এরইমধ্যে বৃহস্পতিবার এক বার্তায় পবন জানান, তিনি কয়েকটি প্রশ্ন করেছেন মাত্র ৷ উত্তর না দিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করতে চাইছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী ৷

অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার স্ত্রী রিণিকি শর্মার নাগরিকত্ব নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার জেরে আইনি জাঁতাকলে পড়েছিলেন কংগ্রেস নেতা পবন খেরা। তবে শুক্রবার তেলেঙ্গানা হাইকোর্ট থেকে বড়সড় স্বস্তি পেলেন তিনি। আদালত তাঁর আগাম জামিন মঞ্জুর করার পাশাপাশি জানিয়েছে, আগামী ৭ দিন তাঁকে গ্রেফতার করা যাবে না।

ঘটনার সূত্রপাত: গত রবিবার দিল্লিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে পবন খেরা দাবি করেন, হিমন্ত বিশ্বশর্মার স্ত্রী রিণিকি শর্মা ভারত ছাড়াও আরব আমিরশাহি, অ্যান্টিগা এবং বারবুডার নাগরিক। অর্থাৎ তাঁর কাছে তিনটি দেশের পাসপোর্ট রয়েছে। এছাড়াও দুবাইয়ে তাঁর বিপুল সম্পত্তি রয়েছে যা নির্বাচনী হলফনামায় গোপন করা হয়েছে। এরপরই কংগ্রেস নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন রিণিকি।

আদালতের পর্যবেক্ষণ: বিচারপতি সুজানা কালাইসিকম পবনের বিরুদ্ধে থাকা এফআইআর-এর প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট হাইকোর্টে (অসম) আবেদন করার জন্য তাঁকে সাত দিন সময় দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না বলে আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে। এর আগে অসম পুলিশ দিল্লিতে পবনের বাড়িতে হানা দিলেও তাঁকে পায়নি।

পবন খেরার বিস্ফোরক অভিযোগসমূহ:

  • দ্বৈত নাগরিকত্ব: ভারতে দ্বৈত নাগরিকত্ব বৈধ নয়, তাহলে রিণিকির কাছে তিন দেশের পাসপোর্ট কেন?

  • তীর্যক আক্রমণ: হিমন্ত ভারতীয় মুসলিমদের আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, অথচ তাঁর স্ত্রীর কাছেই মুসলিম প্রধান দেশের পাসপোর্ট রয়েছে বলে দাবি খেরার।

  • দুর্নীতি: রিণিকির দুবাইয়ের সম্পত্তি নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে তথ্য দেননি মুখ্যমন্ত্রী।

পাল্টা আক্রমণ হিমন্তের: মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন এবং পবন খেরাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেছেন। এমনকি রাহুল গান্ধি অসমের এক সভা থেকে হিমন্তকে ‘দেশের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত মুখ্যমন্ত্রী’ বলে তোপ দাগলে লড়াই আরও তীব্র হয়।

পবন খেরা জানিয়েছেন, তিনি কেবল প্রশ্ন তুলেছেন, আর সেই উত্তর না দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে গ্রেফতার করার চেষ্টা করছেন। আপাতত হাইকোর্টের নির্দেশে সাময়িকভাবে স্বস্তিতে কংগ্রেসের এই প্রবীণ নেতা।