ভোটাধিকার নিয়ে বড় আপডেট! সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলা: ‘স্থায়ী অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না’, পর্যবেক্ষণ বিচারপতির

পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে লক্ষ লক্ষ মানুষের ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া সংক্রান্ত এসআইআর (Special Intensive Revision) মামলায় আজ সুপ্রিম কোর্টে এক গুরুত্বপূর্ণ শুনানি সম্পন্ন হলো। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে মামলাটি উঠলে আদালত স্পষ্ট জানায়, নাগরিকের ভোট দেওয়ার অধিকার একটি স্থায়ী সাংবিধানিক অধিকার এবং তা থেকে কাউকে বঞ্চিত করা যাবে না।

আদালতে আজ কী হলো? আবেদনকারীদের আইনজীবী আদালতে জানান যে, নির্বাচন কমিশন গত ৯ই এপ্রিল ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ বা চূড়ান্ত করে দিয়েছে। কিন্তু এখনও অনেক মানুষের অভিযোগের নিষ্পত্তি হয়নি। মাত্র দু’টি আবেদন খতিয়ে দেখা হয়েছে, যা প্রমাণ করে যে পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত তাড়াহুড়ো করে করা হয়েছে।

বিচারপতির গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ: বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী শুনানির সময় একটি বড় দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন:

  • প্রতিটি নির্বাচনের জন্য একটি ‘কাট-অফ’ তারিখ থাকে, যা কমিশন মেনে চলে।

  • কিন্তু এর বাইরেও একজন নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে ভোটার তালিকায় নাম থাকার এবং পরবর্তী নির্বাচনগুলোতে ভোট দেওয়ার।

  • এই অধিকারটি অনেক বেশি স্থায়ী এবং বৃহত্তর বিষয়, যা আদালত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।

নির্বাচন কমিশনের অবস্থান: কমিশনের আইনজীবী ডিএস নাইডু জানান, ৯ই এপ্রিল তারিখ পেরিয়ে যাওয়ার পর তালিকায় নতুন করে পরিবর্তনের জায়গা থাকে না। তবে আদালত পাল্টা জানায়, ভোটারদের স্থায়ী অধিকার রক্ষা করা জরুরি।

পরবর্তী পদক্ষেপ কী? প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত আশ্বাস দিয়ে জানিয়েছেন, কোনো ভোটারকেই স্থায়ীভাবে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে না। আগামী ১৩ই এপ্রিল এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। ওইদিন আদালত বিবেচনা করবে যে, তালিকা ফ্রিজ হয়ে যাওয়ার পরেও নাম ফেরানোর কোনো সুযোগ আছে কি না।

কেন এই উদ্বেগ? রাজ্যের কয়েক লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আবেদনকারীদের দাবি, তাঁদের অনেকেরই বৈধ পাসপোর্ট ও নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও নাম কাটা গিয়েছে। ১৩ তারিখের রায়ের ওপরই নির্ভর করছে এই বিশাল সংখ্যক মানুষের ভোটাধিকারের ভবিষ্যৎ।