‘৪ মের পর বাংলায় সব বন্ধ!’ ভোট মিটলেই কড়া দাওয়াইয়ের হুঁশিয়ারি দিলীপ ঘোষের!

২০২৬-এর মে মাসেই কি বদলে যাবে বাংলার মানচিত্র? অন্তত বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের কথা শুনলে তেমনটাই মনে হচ্ছে। শুক্রবার খড়গপুর সদরের বিজেপি প্রার্থী সাফ জানিয়ে দিলেন, ৪ মে ভোটের ফলাফল ঘোষণার পরই বাংলায় সমস্ত রাজনৈতিক হিংসা ও অত্যাচারের অবসান ঘটবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ‘অ্যাকশন প্ল্যান’-এর উদাহরণ টেনে এদিন রীতিমতো আত্মবিশ্বাসী শোনাল দিলীপকে।
অমিত শাহ যা বলেন, তাই করেন! সংবাদসংস্থা ANI-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দিলীপ ঘোষ বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যা প্রতিশ্রুতি দেন, তা পালন করেন। মাওবাদী দমনের জন্য মার্চ মাস পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল, আজ তারা কার্যত নিশ্চিহ্ন। ঠিক সেভাবেই ৪ মে-র পর বাংলা থেকে সন্ত্রাস বিদায় নেবে।” তাঁর ইঙ্গিত স্পষ্ট— পরিবর্তনের মাধ্যমেই ফিরবে শান্তি।
মানুষ আর নিতে পারছে না! রাজ্যের সাম্প্রতিক অস্থির পরিস্থিতি নিয়ে সরব হয়ে দিলীপ বলেন, “সন্দেশখালি থেকে শুরু করে আরজি কর বা কসবা ল’ কলেজ— সাধারণ মানুষ এখন দিশেহারা। চারিদিকে শুধু ক্ষোভ। মানুষ এই শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন চাইছে এবং এই নির্বাচনই সেই সুযোগ।”
শাহর হাত ধরে ‘সংকল্প পত্র’ প্রকাশ: ভোটের ঠিক মুখেই শুক্রবার কলকাতায় বিজেপির নির্বাচনী ইশতেহার বা ‘সংকল্প পত্র’ প্রকাশ করতে চলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এক্স হ্যান্ডেলে শাহ আক্রমণাত্মক মেজাজে লিখেছেন, “তৃণমূলের শাসনে ক্লান্ত বাংলা এখন মুক্তি চায়। আমাদের লক্ষ্য বাংলাকে ত্রাসের রাজত্ব থেকে মুক্ত করা।” এই ইশতেহারে নারী নিরাপত্তা, কৃষক কল্যাণ ও কর্মসংস্থানে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
এক নজরে ২০২৬-এর ভোটচিত্র:
-
ভোটের তারিখ: ২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল (দুই দফায়)।
-
ফলাফল: ৪ মে, ২০২৬।
-
আসন সংখ্যা: ২৯৪টি।
২০২১-এর তিক্ত লড়াইয়ের পর ২০২৬-এ দিলীপ ঘোষের এই ‘শান্তির গ্যারান্টি’ কি ভোটারদের মনে প্রভাব ফেলতে পারবে? উত্তর মিলবে ৪ মে-র ব্যালট বক্সে।