দৈনিক ১.৫ লক্ষ কেজি খাবার, উদ্ধার ২৫০ হাতি! এক বছরেই বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিল অনন্ত অম্বানির ‘বনতারা’

ঠিক এক বছর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাত ধরে পথ চলা শুরু করেছিল। আজ, প্রথম বর্ষপূর্তিতে অনন্ত অম্বানির স্বপ্নের প্রকল্প ‘বনতারা’ (Vantara) যা পরিসংখ্যান পেশ করল, তা দেখে স্তম্ভিত বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা। স্রেফ পশুশালা নয়, বনতারা এখন বিশ্বের অন্যতম আধুনিক বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও চিকিৎসা কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

এক নজরে বনতারার সাফল্যের খতিয়ান:

প্রতিষ্ঠার মাত্র এক বছরের মধ্যেই বনতারা ফাউন্ডেশন বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসনে অভাবনীয় নজির গড়েছে। এক নজরে দেখে নিন তাদের কর্মকাণ্ড:

  • বিশাল ভোজ: প্রতিদিন হাজার হাজার বন্যপ্রাণীর জন্য প্রস্তুত করা হয় প্রায় ১ লক্ষ ৫৬ হাজার কেজি খাদ্য

  • হাই-টেক পরিষেবা: খাবার সরবরাহের জন্য ব্যবহার করা হয় ৫০টি তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত (Temperature Controlled) বিশেষ যানবাহন।

  • হাতিদের নতুন জীবন: গত এক বছরে ২৫০টির বেশি হাতিকে উদ্ধার করে দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

  • বিশেষজ্ঞদের টিম: এই মহাযজ্ঞে যুক্ত রয়েছেন ২০০ জন বিশেষজ্ঞ এবং ১০০০-এর বেশি কৃষক।

চিকিৎসায় বিপ্লব: ন্যাশানাল রেফারেল সেন্টার

বনতারা বর্তমানে পশ্চিমাঞ্চলের জন্য ‘ন্যাশনাল রেফারেল সেন্টার ফর ওয়াইল্ডলাইফ’ হিসেবে কাজ করছে। এখানে রয়েছে:

  • আধুনিক কেন্দ্রীয় ল্যাবরেটরি এবং ১১টি স্যাটেলাইট ল্যাব।

  • প্রতিদিন ২০০০-এর বেশি নমুনা পরীক্ষার ক্ষমতা।

  • অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে হাজার হাজার কুমির ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর নিয়মিত পরিচর্যা।

আন্তর্জাতিক সম্মান ও স্বীকৃতি

অনন্ত আম্বানির এই উদ্যোগ শুধু ভারতেই নয়, বিশ্বমঞ্চেও স্বীকৃতি পেয়েছে।

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে অনন্য অবদানের জন্য তিনি পেয়েছেন ‘গ্লোবাল হিউম্যান অ্যাওয়ার্ড’। এছাড়া ‘প্রাণী মিত্র পুরস্কার ২০২৫’ এবং একাধিক আন্তর্জাতিক কনজারভেশন সার্টিফিকেশনও বনতারার মুকুটে পালক হিসেবে যুক্ত হয়েছে।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বড় পদক্ষেপ

শুধুমাত্র ঘেরাটোপের মধ্যে নয়, বনতারা বন্যপ্রাণীদের মুক্ত প্রকৃতিতে ফেরাতেও তৎপর। ইতিমধ্যেই ৫৩টি চিতল হরিণকে বরদা ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারিতে মুক্ত করা হয়েছে। এমনকি ইন্দোনেশিয়ায় কচ্ছপ পুনর্বাসন প্রকল্প এবং পাঞ্জাবের বন্যায়