“ইয়ে ডর মুঝে আচ্ছা লাগা!” শাহের সংকল্পপত্র দেখে কেন এমন বিষ্ফোরক সেলিম?

বঙ্গ রাজনীতির ময়দানে আজ যেন ‘ইস্তাহার যুদ্ধ’। সকালে অমিত শাহের ‘সংকল্পপত্র’ প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা তোপ দাগলেন সিপিআইএম (CPIM) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কেন বারবার বাম আমলের সমালোচনা করছেন, তার নেপথ্যে ‘ভয়’ দেখছেন সেলিম। হাসিমুখে তাঁর কটাক্ষ, “ইয়ে ডর মুঝে আচ্ছা লাগা!”

বিজেপির টার্গেটে কেন বামেরা?

এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে মহম্মদ সেলিম দাবি করেন, বিজেপি আসলে তৃণমূলকে নয়, বামেদের পুনরুত্থানকে ভয় পাচ্ছে। তাঁর যুক্তি:

“বিজেপি ভয় পেয়েছে বলেই বারবার সিপিএম আমলকে টেনে আনছে। এমনকি অনেক জায়গায় তৃণমূলকে বাদ দিয়ে আমাদের যুবনেতা কলতান বা শতরূপের বিরুদ্ধে পোস্টার দিয়ে গালাগালি করা হচ্ছে। এই ভয়টাই প্রমাণ করে বামেরা সঠিক পথে আছে।”

“গণতন্ত্র হরণের চক্রান্ত”

বিজেপির ইস্তাহারকে কার্যত গুরুত্বহীন বলে উড়িয়ে দিয়ে সেলিম অভিযোগ করেন, লক্ষ লক্ষ মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়াকে ‘গণতন্ত্র নষ্ট করার চক্রান্ত’ বলে অভিহিত করে তিনি বলেন, এক বিশাল অংশের মানুষকে ভোটের বাইরে রেখে কোনোভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।

UCC ইস্যুতে সংঘাত

বিজেপির সংকল্পপত্রে বড় ঘোষণা ছিল ক্ষমতায় আসার ৬ মাসের মধ্যে রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC) লাগু করা। এই প্রসঙ্গে অমিত শাহের চ্যালেঞ্জ ছিল, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যতই বাধা দিন, এটি কার্যকর হবেই।” সেলিমের মতে, এসবই নজর ঘোরানোর কৌশল। উত্তরাখণ্ড বা গুজরাতের উদাহরণ টেনে বিজেপি বাংলায় যে মেরুকরণের রাজনীতি করতে চাইছে, তা সাধারণ মানুষ রুখে দেবে বলে মনে করেন তিনি।

ইস্তাহার নকলের অভিযোগ?

মজা করে সেলিম এদিন বলেন, বামেরা ইস্তাহার প্রকাশ করার পরই তৃণমূল ও বিজেপি তড়িঘড়ি তাদের সংকল্পপত্র বা ইস্তাহার আনছে। তাঁর দাবি, শাসক ও প্রধান বিরোধী—উভয় দলই মানুষের ওপর ভরসা হারিয়ে এখন প্রতিশ্রুতির আড়ালে লুকোচুরি খেলছে।

Samrat Das
  • Samrat Das