অমিত শাহের ১৫ প্রতিশ্রুতিই ‘প্রহসন’! ইস্তাহার প্রকাশের কয়েক ঘণ্টায় বিষ্ফোরক অভিষেক

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজিয়ে শুক্রবারই বিজেপির নির্বাচনী ইস্তাহার বা ‘সংকল্পপত্র’ প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কিন্তু সেই রেশ কাটতে না কাটতেই পাল্টা হুঙ্কার ছাড়লেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শাহের ১৫ দফা প্রতিশ্রুতিকে স্রেফ ‘প্রহসন’ বলে উড়িয়ে দিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা থেকে শুরু করে হাসিনা-ইস্যু—একাধিক প্রশ্নে কেন্দ্রকে বিঁধলেন তিনি।

“হাসিনাকে আশ্রয় কেন?” শাহকে সরাসরি প্রশ্ন

এদিন সাংবাদিক বৈঠক থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি আক্রমণ শানান মোদি সরকারের বিদেশনীতির দিকে। অমিত শাহের ‘বাংলাদেশ’ সংক্রান্ত মন্তব্যের প্রেক্ষিতে অভিষেক প্রশ্ন তোলেন:

“বাংলাকে যদি আপনারা সবসময় বাংলাদেশের চশমা দিয়ে দেখেন, তবে গত দেড় বছর ধরে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে কেন আশ্রয় দিয়ে রাখা হয়েছে? কোন শিল্পপতির স্বার্থ রক্ষায় এই পদক্ষেপ?”

বাংলাদেশে হিন্দু সাধু-সন্তদের ওপর অত্যাচারের সময় কেন্দ্র কেন কোনো সদর্থক ভূমিকা নেয়নি, সেই জবাবও তলব করেন তিনি।

ভোটার তালিকা থেকে ৯২ লক্ষ নাম বাদ!

বিজেপির ‘বাঙালি প্রেম’ নিয়ে প্রশ্ন তুলে অভিষেক পরিসংখ্যান পেশ করেন। তিনি দাবি করেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে রাজ্যে প্রায় ৯০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৬৩ শতাংশই হিন্দু বাঙালি। অসমের এনআরসি-র উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে ১২ লক্ষ হিন্দু বাঙালিকে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানোর ষড়যন্ত্র হয়েছিল। বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাংলা ভাষায় কথা বললে হেনস্থা হতে হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

‘সোনার বাংলা’ কোথায় গেল?

গত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির স্লোগান ছিল ‘সোনার বাংলা’। এবারের ইস্তাহারে সেই শব্দের অনুপস্থিতি নিয়ে কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, “তবে কি বিজেপি মেনে নিয়েছে যে গত কয়েক বছরে বাংলা ইতিমধ্যেই সোনার বাংলায় পরিণত হয়েছে?” তার দাবি, বিজেপি আসলে চায় বাংলা পরিচালিত হোক দিল্লি ও গুজরাট থেকে।

জাতীয় নিরাপত্তা ও দুর্নীতি নিয়ে পাল্টা আক্রমণ

অমিত শাহ অনুপ্রবেশ রোখার যে দাবি করেছেন, তাকে নসাৎ করে অভিষেক মনে করিয়ে দেন:

  • ব্যর্থতা: দিল্লি পুলিশ কেন্দ্রের অধীনে থাকা সত্ত্বেও খোদ রাজধানীতে বিস্ফোরণ ঘটছে।

  • কাশ্মীর ইস্যু: পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় সাধারণ মানুষের মৃত্যু কেন্দ্রের ব্যর্থতার প্রমাণ।

  • দুর্নীতি: শুভেন্দু অধিকারী বা হিমন্ত বিশ্ব শর্মার মতো নেতাদের পাশে বসিয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কথা বলা ‘হাস্যকর’।

ডিএ ও বেতন কমিশন: “শাহ জানেনই না!”

সরকারি কর্মীদের সপ্তম বেতন কমিশন ও ডিএ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে শাহকে খোঁচা দিয়ে অভিষেক বলেন, গত ৫ ফেব্রুয়ারির রাজ্য বাজেটেই এই ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হোমওয়ার্ক না করেই প্রতিশ্রুতি বিলি করছেন বলে দাবি তাঁর।

উপসংহার: নির্বাচনের মুখে অমিত শাহের ইস্তাহার বনাম অভিষেকের পাল্টা আক্রমণ—দুই শিবিরের এই বাগযুদ্ধ বাংলার রাজনৈতিক পারদকে এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দিল। এখন দেখার, এই ‘প্রতিশ্রুতির লড়াই’ ব্যালট বাক্সে কী প্রভাব ফেলে।

Samrat Das
  • Samrat Das