“মমতাদি এমন ২-৪ ভিডিও বানাতে পারেন…'”-হুমায়ুন প্রসঙ্গে যা বললেন অমিত শাহ

২০২৬-এর নির্বাচনী লড়াই শুরু হওয়ার আগেই সরগরম বাংলার রাজনীতি। একদিকে ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’র প্রধান হুমায়ুন কবীরের একটি গোপন ভিডিও (যা তৃণমূল প্রকাশ করেছে) এবং অন্যদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কড়া পালটা চাল— দুইয়ে মিলে সরগরম তিলোত্তমা।
‘মমতাদি ২-৪টি ভিডিও বানাতেই পারেন’: অমিত শাহ
শুক্রবার কলকাতায় বিজেপির ইশতেহার প্রকাশের মঞ্চ থেকে তৃণমূলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন অমিত শাহ। হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বিজেপির গোপন আঁতাতের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন:
“আপনারা মমতাদিদির ক্ষমতা জানেন না। মমতাদি এমন ২ থেকে ৪টি ভিডিও অনায়াসেই বানিয়ে ফেলতে পারেন। হুমায়ুন কবীর এবং বিজেপি হলো উত্তর মেরু আর দক্ষিণ মেরু— আমাদের কোনোদিন মিল হওয়া সম্ভব নয়।”
শাহ আরও যোগ করেন, যারা বাংলায় বাবরি মসজিদ তৈরি করতে চায়, তাদের সঙ্গে হাত মেলানোর চেয়ে আরও ২০ বছর বিরোধী আসনে থাকাও শ্রেয়।
ভিডিও ঘিরে ১০০০ কোটির কেলেঙ্কারি?
বিতর্কের সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার। তৃণমূল কংগ্রেস একটি ভিডিও (ডেইলিহান্ট এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি) প্রকাশ করে দাবি করে, সেখানে হুমায়ুন কবীরকে জনৈক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে দেখা যাচ্ছে। ভিডিওর মূল অংশগুলি ছিল নিম্নরূপ:
-
টাকার খেলা: অজ্ঞাত ব্যক্তি ১০০০ কোটি টাকার কথা তুললে হুমায়ুনকে বলতে শোনা যায়, “আপনার থেকে ১০০০ কোটি চাইছি, আমি ৩০০ কোটি রেখে দেব। বিহারে নীতীশ কুমারও ঠিক এটাই করেছিল।”
-
সংখ্যালঘু আবেগ: মুসলিমদের ‘ভোলাভালা’ সম্বোধন করে হুমায়ুন ভিডিওতে দাবি করেন, তাঁদের বোকা বানানো সহজ।
-
বাবরি মসজিদ কার্ড: “জেনে শুনেই বাবরি মসজিদ নামটা তুলেছিলাম। অন্য নামে করলে আবেগটা থাকত না,”—ভিডিওতে এমনটাই দাবি করতে শোনা যায় তাঁকে।
হুমায়ুনের পালটা ‘এআই’ অস্ত্র
তৃণমূলের এই আক্রমণের জবাবে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরও দমে যাওয়ার পাত্র নন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ভিডিওটি সম্পূর্ণ ভুয়ো এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মানহানির মামলারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
তৃণমূলের অভিযোগ বনাম বিজেপির সাফাই
তৃণমূলের দাবি, বিজেপির থেকে ১০০০ কোটি টাকা নিয়ে সংখ্যালঘু ভোট ভাগ করার ষড়যন্ত্র করছেন হুমায়ুন। অন্যদিকে, অমিত শাহের দাবি, এই গোটাটাই তৃণমূলের সাজানো নাটক। ভোটের মুখে ‘ভিডিও-যুদ্ধ’ যে বাংলার রাজনীতির নতুন ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়াচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।