বিজেপি এলেই কি বন্ধ হবে মাছ-ভাত? তৃণমূলের ‘গুজব’ নিয়ে বিস্ফোরক অমিত শাহ!

২০২৬-এর মহাযুদ্ধের আগে বাংলার রাজনীতিতে এবার প্রবেশ করল ‘খাদ্যাভ্যাস’। বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাঙালি কি তার প্রিয় মাছ-ভাত বা ডিম খেতে পারবে? তৃণমূলের এই ক্রমাগত প্রচারের মুখে দাঁড়িয়ে এবার সরাসরি ময়দানে নামলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুক্রবার নিউটাউনে বিজেপির ‘সংকল্প পত্র’ প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, বিজেপিকে নিয়ে তৃণমূল যে খাদ্যাভ্যাসের ভয় দেখাচ্ছে, তা আদতে ভিত্তিহীন এক ‘গুজব’।
এদিন জনসভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরাসরি তোপ দেগে শাহ বলেন, “তৃণমূল মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে মাছ-ডিম খাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। আমি আজ বাংলার মানুষকে স্পষ্ট করে আশ্বস্ত করছি, এমন কোনও সিদ্ধান্ত আমাদের সরকার নেবে না।” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, মানুষের ব্যক্তিগত খাদ্যাভ্যাসে হস্তক্ষেপ করার কোনও পরিকল্পনা বিজেপির নেই; বরং দলের প্রধান লক্ষ্য হলো উন্নয়ন, শিল্পায়ন এবং ভেঙে পড়া আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার করা।
তৃণমূলের ১৫ বছরকে ‘কালরাত্রি’ আখ্যা:
সংকল্প পত্র প্রকাশের মঞ্চে দাঁড়িয়ে গত ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনকে ‘কালরাত্রি’র সঙ্গে তুলনা করেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, “দীর্ঘ বাম অপশাসনের পর মানুষ বুক ভরা আশা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমতায় এনেছিল। কিন্তু সেই আশা পূরণ হয়নি। গত ১৫ বছর বাংলার মানুষের কাছে অন্ধকারের সমান।” এই পরিস্থিতির পরিবর্তনের ডাক দিয়ে শাহ দাবি করেন, বিজেপি ক্ষমতায় আসার ১০০ দিনের মধ্যেই উন্নয়নের নতুন রোডম্যাপ কার্যকর হবে।
এদিনের অনুষ্ঠানে শাহের পাশে হাজির ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার, লকেট চট্টোপাধ্যায় এবং অগ্নিমিত্রা পালের মতো হেভিওয়েট নেতারা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উন্নয়ন ও দুর্নীতির পাশাপাশি এবার ‘মাছ-ডিম’ বা খাদ্যাভ্যাসের মতো সংবেদনশীল আবেগকে হাতিয়ার করে যে লড়াই শুরু হলো, তা নির্বাচনের আগে মেরুকরণকে আরও উসকে দিতে পারে। তবে শাহের এই ‘ক্লিনচিট’ বিরোধীদের প্রচারের ধার কতটা কমাতে পারে, সেটাই এখন দেখার।