“কৃষকদের ৯ হাজার, যুবকদের ৩ হাজার”-দেখেনিন BJP-র ইস্তেহারে কী কী রয়েছে

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের লক্ষ্যে শুক্রবার কলকাতায় বিজেপির নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তবে চিরাচরিত ‘সংকল্প পত্র’ নয়, এবার ইশতেহারের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ভরসা পত্র’। শাহের দাবি, এই ইশতেহার কেবল একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি নয়, বরং বাংলার মানুষকে বর্তমান ‘অন্ধকার’ থেকে মুক্ত করার একটি নিশ্চিত পথ।
💰 মহিলা ও যুবকদের জন্য বড় চমক
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর পাল্টা হিসেবে বিজেপি বড় দাওয়াই দিয়েছে এই ভরসা পত্রে:
-
মহিলাদের জন্য: নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মহিলারা প্রতি মাসে পাবেন ৩,০০০ টাকা। মাসের ১ থেকে ৫ তারিখের মধ্যে এই টাকা সরাসরি অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে। এছাড়া সরকারি বাসে মহিলারা পাবেন বিনা টিকিটে যাতায়াতের সুযোগ।
-
যুবকদের জন্য: বেকার যুবকদের মাসিক ৩,০০০ টাকা বেকার ভাতা দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে এক কোটি যুবকের চাকরির। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এককালীন ১৫,০০০ টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে।
💼 সরকারি কর্মীদের জন্য সুখবর
রাজ্য সরকারি কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে শাহ ঘোষণা করেছেন, ক্ষমতায় আসার ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম পে কমিশন অনুযায়ী বেতন কার্যকর করা হবে। পাশাপাশি বকেয়া সমস্ত ডিএ (DA) মেটানোর দায়িত্ব নেবে বিজেপি সরকার।
🛡️ অনুপ্রবেশ ও সুরক্ষা নিয়ে কড়া বার্তা
বিজেপি তাদের চিরকালীন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অবিচল থেকেছে:
-
অনুপ্রবেশ: ‘ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোর্ট’ নীতির মাধ্যমে অনুপ্রবেশকারীদের রাজ্যছাড়া করা হবে।
-
সুরক্ষা স্কোয়াড: মহিলাদের নিরাপত্তার জন্য তৈরি হবে বিশেষ ‘দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড’।
-
ইউসিসি (UCC): ক্ষমতায় আসার ৬ মাসের মধ্যে রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি কার্যকর করা হবে।
🌾 কৃষকদের জন্য আর্থিক ডালি
প্রধানমন্ত্রী কিষান নিধি প্রকল্পের সুবিধা আরও বাড়িয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে কৃষকদের বছরে ৯,০০০ টাকা (৬০০০+৩০০০) দেওয়া হবে। আলু, ধান ও আম সরাসরি কৃষকদের থেকে কিনবে সরকার।
🏗️ উত্তরবঙ্গ ও কলকাতার উন্নয়ন
-
উত্তরবঙ্গে এইমস (AIIMS), আইআইটি (IIT) এবং ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার প্রতিশ্রুতি।
-
কলকাতা মেট্রোর প্রসার এবং সিঙ্গুরে বিজনেস পার্ক তৈরির ঘোষণা।
-
কুড়মালি ও রাজবংশী ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফশিলের অন্তর্ভুক্ত করার সংকল্প।
⚖️ দুর্নীতির বিরুদ্ধে শ্বেতপত্র
গত কয়েক বছরের রাজনৈতিক হিংসা ও দুর্নীতি নিয়ে সরকার তিনটি শ্বেতপত্র (White Paper) প্রকাশ করবে। সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের দিয়ে বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রত্যেকটি কেলেঙ্কারির ফাইল পুনরায় খোলা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অমিত শাহ।
সব মিলিয়ে, অমিত শাহের এই ‘ভরসা পত্র’ বাংলার মানুষের ক্ষোভ ও প্রত্যাশাকে পুঁজি করে বিধানসভা জয়ের এক পূর্ণাঙ্গ ব্লু-প্রিন্ট। শাহের কথায়, “সোনার বাংলা গড়তে বাংলার জনতা আমাদের একবার সুযোগ দেবেনই।”