যুদ্ধের কবলে হরমুজ প্রণালী! টোল আদায়ের দাবিতে অনড় ইরান; চরমে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট

গত পাঁচ সপ্তাহ ধরে বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছে পারস্য উপসাগর ও ভারত মহাসাগরের সংযোগস্থল—হরমুজ প্রণালী। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই এই জলপথটি কার্যত এক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। তেহরানের ক্রমাগত হামলায় এই পথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তৈরি হয়েছে ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ জ্বালানি সংকট। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও, ইরান এই কৌশলী জলপথের ওপর থেকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে নারাজ।
যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ইরান যে ১০ দফা প্রস্তাব পেশ করেছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো হরমুজ প্রণালীর ওপর ‘কার্যত নিয়ন্ত্রণ’ এবং এই পথ দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলোর কাছ থেকে ‘পারাপার ফি’ বা টোল আদায়। সূত্রের খবর, ইরান প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য ১ ডলার করে শুল্ক দাবি করার পরিকল্পনা করছে এবং এই অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে নেওয়ার কথা ভাবছে। তেহরানের দাবি, ওমানের সঙ্গে মিলে তারা এমন এক বিধিমালা তৈরি করছে যেখানে যাতায়াতের জন্য বিশেষ লাইসেন্স বাধ্যতামূলক হবে। যদিও ওমান সরকার ইতিমধ্যেই এই প্রস্তাবে অসম্মতি জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন (UNCLOS) অনুযায়ী, কোনো রাষ্ট্র প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের জন্য অর্থ দাবি করতে পারে না। ফলে ইরানের এই একতরফা দাবি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু পরিস্থিতি এখন জটিল; কারণ ইরানের সুসংহত বাহিনী উপকূলীয় পাহাড়ি অঞ্চল থেকে অনায়াসেই জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে সক্ষম। এই সংকট নিরসনে এখন ইরানের বন্ধু দেশ তথা জ্বালানির প্রধান আমদানিকারক চীনের ভূমিকার দিকেই তাকিয়ে রয়েছে বিশ্বমহল।