“পাকিস্তানে লকডাউন”-ফাঁকা রাস্তা, বন্ধ স্কুল, কলেজ, অফিস, কী পরিস্থিতি?

ইসলামাবাদ: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা কি আদৌ থামল? দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে চর্চা চললেও মাটি কামড়ে পড়ে থাকা উত্তেজনা বলছে পরিস্থিতি অত্যন্ত ‘ভঙ্গুর’। এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির মধ্যেই এক অভাবনীয় কূটনৈতিক চাল চালল পাকিস্তান। আগামী ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদের মাটিতেই মুখোমুখি বসতে চলেছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ— আমেরিকা ও ইরান

🛡️ সেনার দখলে ইসলামাবাদ: রেড জোন ঘোষিত রাজধানী

এই হাই-ভোল্টেজ বৈঠককে কেন্দ্র করে ইসলামাবাদকে আক্ষরিক অর্থেই এক দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে যা যা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে:

  • পুরো ইসলামাবাদকে ‘রেড জোন’ ঘোষণা করে নামানো হয়েছে সেনা ও সশস্ত্র পুলিশ।

  • শহরজুড়ে জারি হয়েছে লকডাউন; স্কুল, কলেজ ও সরকারি অফিস দু-দিনের জন্য (বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার) ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

  • রাস্তায় রাস্তায় বসানো হয়েছে চেকপোস্ট, প্রতিটি গাড়ি তল্লাশি করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের যাতায়াত সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত।

✈️ আকাশে যুদ্ধবিমান, স্থলে ৩০ সদস্যের মার্কিন টিম

নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না শাহবাজ শরিফ সরকার। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি জানিয়েছেন, মার্কিন প্রতিনিধিদলের জন্য ‘ফুলপ্রুফ’ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ৩০ সদস্যের একটি মার্কিন অগ্রবর্তী দল নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। শুধু মাটি নয়, নজরদারি চলছে আকাশপথেও। সূত্রের খবর, ইরানি প্রতিনিধিদের বিমানকে এসকর্ট করে আনতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান।

⚖️ নেপথ্যে খামেনেই হত্যাকাণ্ড ও পাকিস্তানের ‘মধ্যস্থতা’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই-র হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের সম্পর্ক খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে ছিল। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই বৈঠকে পাকিস্তান অনেকটা ‘দালালি’ বা মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। দুই দেশের তিক্ততা কমিয়ে যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী রূপ দেওয়াই এই বৈঠকের আসল লক্ষ্য।

⚠️ আশঙ্কার কালো মেঘ

নিরাপত্তা এত আঁটোসাঁটো হলেও সংশয় কাটছে না। হোয়াইট হাউসের প্রাক্তন প্রেস সচিব অ্যারি ফ্লেইশার মনে করিয়ে দিয়েছেন, পাকিস্তানের বর্তমান অভ্যন্তরীণ যা পরিস্থিতি, তাতে বিখ্যাত সেরেনা হোটেলে এই বৈঠক কতটা সুরক্ষিতভাবে সম্পন্ন হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

সব মিলিয়ে আগামী ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদের এই বৈঠকের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা দুনিয়া। এই আলোচনা যুদ্ধের আগুনে জল ঢালবে, নাকি পরিস্থিতি আরও জটিল করবে— সেটাই এখন দেখার।