বেআইনি মজুতদারদের কড়া দাওয়াই! সিলিন্ডার ও তেলের কৃত্রিম সংকট রুখতে অ্যাকশনে HPCL, বাতিল ২৭টি ডিলারশিপ

কৃত্রিম সংকট রুখতে ‘অ্যাকশন মোডে’ HPCL—অসাধু ডিলারদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ, বাজেয়াপ্ত হাজার হাজার সিলিন্ডার
নয়াদিল্লি ও কলকাতা, ৯ এপ্রিল: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধবিরতির ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে কিছুটা স্বস্তি মিললেও, দেশের ভেতরে যাতে অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, তার জন্য কোমর বেঁধে নামল হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (HPCL)। ১ এপ্রিল থেকে নতুন অর্থবর্ষ শুরু হতেই জ্বালানির চাহিদা বাড়ার সুযোগ নিয়ে যারা কালোবাজারি করছে, তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছে এই রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা।
অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে বড় হানা: মার্চের মাঝামাঝি থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত দেশজুড়ে ঝোড়ো অভিযান চালিয়েছে HPCL। সংস্থার দেওয়া তথ্যানুযায়ী:
-
ডিলারশিপ বাতিল: ৪,৩৮৫টি পরিদর্শনে অনিয়ম ধরা পড়ায় ৭৪ জন ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২৭টি ডিলারশিপ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
-
জব্দ সিলিন্ডার: রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে যৌথ অভিযানে ৩,১৬৩টি এলপিজি সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং দায়ের হয়েছে ৪০টি এফআইআর (FIR)।
সরবরাহে জোয়ার: কোনো ঘাটতি নেই গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে HPCL জানিয়েছে, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে জ্বালানির ব্যাপক চাহিদা থাকলেও জোগান পর্যাপ্ত রয়েছে।
-
পেট্রোল ও ডিজেল: ১ থেকে ৭ এপ্রিলের মধ্যে প্রায় ২.৬৪ লক্ষ কিলোলিটার পেট্রোল এবং ৪.৭৭ লক্ষ কিলোলিটার ডিজেল বিক্রি হয়েছে। ৪৮ হাজারেরও বেশি ট্যাঙ্কারে করে তেল পাঠানো হয়েছে দেশের আনাচে-কানাচে।
-
গ্যাস সিলিন্ডার: এই কয়েক দিনে রেকর্ড ৮৯ লক্ষ এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ করা হয়েছে। এমনকি গরিব ও পরিযায়ী শ্রমিকদের সুবিধার্থে ৫ কেজি ও ২ কেজির প্রায় ২ লক্ষ ‘ফ্রি ট্রেড’ সিলিন্ডার বাজারে আনা হয়েছে।
ডিজিটাল বুকিংয়ে জোর: পরিষেবা আরও স্বচ্ছ করতে সংস্থা জানিয়েছে, বর্তমানে ৯৫ শতাংশ গ্যাস বুকিংই হচ্ছে অনলাইন বা ডিজিটাল মাধ্যমে (WhatsApp, SMS, HP Pay)। ফলে দালাল বা অসাধু চক্রের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই: HPCL-এর তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, কিছু এলাকায় সাময়িক চাপ থাকলেও জ্বালানি বা গ্যাসের কোনও সামগ্রিক ঘাটতি নেই। গ্রাহকদের অনুরোধ জানানো হয়েছে, আতঙ্কিত হয়ে কেউ যেন অতিরিক্ত মজুত না করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরবরাহ বৃদ্ধি ও কড়া নজরদারি—উভয় পদ্ধতিই জারি রাখবে সংস্থা।