মণিপুরে ফের রণক্ষেত্র! রকেট হামলায় ২ শিশুর মৃত্যু, সেনার গুলিতে খতম ৩ বিক্ষোভকারী

শান্তির বাতাবরণ কাটিয়ে ফের অশান্তির আগুনে পুড়ছে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুর। সাতই এপ্রিল রাতে বিষ্ণুপুর জেলায় এক ভয়াবহ রকেট হামলা এবং তার পরবর্তী নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে তিন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর ঘটনায় রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে রাজ্যটি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাজ্যের পাঁচটি জেলায় অবিলম্বে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত: রকেট হামলা ও শিশু মৃত্যু ৭ এপ্রিল রাত ১টা নাগাদ বিষ্ণুপুর জেলার মোইরাং থানা এলাকার একটি বাড়িতে অতর্কিতে রকেট হামলা চালানো হয়। এই বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দুই শিশুর। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই মেইতেই ও কুকি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সুপ্ত উত্তেজনা ফের আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়ে। প্রশ্ন উঠছে, সেনা ক্যাম্পের মাত্র ১ কিমি দূরত্বের মধ্যে কীভাবে এই ভয়াবহ হামলা সম্ভব হলো?
বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা বাহিনীর গুলি: রকেট হামলার প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন কয়েকশো বিক্ষোভকারী। মণিপুর পুলিশ জানিয়েছে:
-
মোইরাং এলাকায় প্রায় ৫০০ জনের একটি দল কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীর ক্যাম্পে চড়াও হওয়ার চেষ্টা করে।
-
উত্তেজিত জনতা বাহিনীর গাড়িগুলোতে আগুন লাগিয়ে দেয় এবং সংরক্ষিত অঞ্চলে প্রবেশের চেষ্টা করে।
-
পরিস্থিতি হাতের বাইরে গেলে বাহিনী গুলি চালায়, যাতে ৩ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয় এবং আহত হন কমপক্ষে ৩০ জন।
ধৃত সন্দেহভাজন ও উদ্ধারকৃত মাদক: পুলিশ এই ঘটনায় ‘ইউনাইটেড কুকি ন্যাশনাল আর্মি’ (UKNA)-এর তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের কাছ থেকে একে-৪৭ রাইফেল, পিস্তল ও প্রচুর কার্তুজের পাশাপাশি প্রায় ২১ কেজি কাঁচা আফিম উদ্ধার করা হয়েছে। এর ফলে অশান্তির পেছনে মাদক পাচারকারীদের হাত থাকার সম্ভাবনাও প্রবল হচ্ছে।
কাঠগড়ায় প্রশাসন: মাত্র দু-মাস আগে সুপ্রিম কোর্টে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা দাবি করেছিলেন যে মণিপুরে শান্তি ফিরছে। কিন্তু বাস্তবের চিত্র সম্পূর্ণ আলাদা। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি থাকলেও কেন বারবার সাধারণ মানুষকে প্রাণ দিতে হচ্ছে, তা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অ্যাক্টিভিস্টরা। মেইতেই ও কুকি—উভয় গোষ্ঠীর সশস্ত্র সংগঠনের সক্রিয়তা বর্তমানে মণিপুরকে ‘সিরিয়া বা লেবাননে’র মতো বিপজ্জনক করে তুলেছে।