১০০০ কোটির ডিল আর উপমুখ্যমন্ত্রীর টোপ! ভাইরাল ভিডিওতে হুমায়ুন কবীরের বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি?

তৃণমূল কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছিল যে, রাজ্যের সংখ্যালঘু ভোট ব্যাঙ্কে ভাঙন ধরিয়ে আসলে বিজেপির হাত শক্ত করতে চাইছে একদল নেতা। এবার সেই অভিযোগেই কি শীলমোহর পড়ল? সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’-র চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরের একটি বিস্ফোরক ভিডিও ঘিরে বর্তমানে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। যদিও এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি আমাদের সংবাদ মাধ্যম। (Humayun Kabir Viral Video)।
মোদী-শুভেন্দুর সঙ্গে ডিলের চাঞ্চল্যকর দাবি
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে হুমায়ুন কবীরকে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করতে শোনা যাচ্ছে যে, তাঁর একমাত্র লক্ষ্য হলো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাংলার ক্ষমতা থেকে সরানো। এই লক্ষে তিনি খোদ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর (PMO), বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব এবং অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখছেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, মুসলিম ভোট তৃণমূলের হাত থেকে সরাতে পারলেই হিন্দু ভোট মেরুকরণ হয়ে সরাসরি বিজেপির ঝুলিতে যাবে।
১০০০ কোটির ‘অঙ্ক’ ও উপমুখ্যমন্ত্রী পদ
ভিডিওর সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অংশটি হলো অর্থের লেনদেন ও ক্ষমতার ভাগাভাগি। হুমায়ুন কবীর দাবি করেছেন, রাজ্যের ৭০ থেকে ৮০টি মুসলিম অধ্যুষিত আসনে ভোট কাটাকাটির খেলা চালিয়ে জেতার জন্য তাঁর মোট প্রায় ১,০০০ কোটি টাকা প্রয়োজন! এই বিশাল অর্থের বিনিময়ে তৃণমূলের ভোট ব্যাঙ্ক তছনছ করার ছক কষা হয়েছে। শুধু তাই নয়, হুমায়ুনের দাবি— এই পরিকল্পনা সফল হলে এবং বিজেপি ক্ষমতায় এলে তাঁকে ‘উপমুখ্যমন্ত্রী’ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
ত্রিশঙ্কু হলে ‘কিংমেকার’ হওয়ার স্বপ্ন
হুমায়ুন কবীর ভিডিওতে আরও স্পষ্ট করেছেন যে, যদি কোনও কারণে বিধানসভা ত্রিশঙ্কু হয়, তবে তিনি ‘কিংমেকার’ হিসেবে বিজেপিকেই সমর্থন দেবেন। তাঁর এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, তবে কি সংখ্যালঘু প্রধান আসনগুলিতে তৃণমূলকে পরাস্ত করতে তলে তলে এই বৃহৎ ষড়যন্ত্রই কাজ করছে? এই ভিডিওর সত্যতা প্রমাণিত হলে বাংলার ভোট সমীকরণ এবং মেরুকরণের রাজনীতি যে আমূল বদলে যাবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তৃণমূল নেতৃত্ব এই বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দিতে শুরু করেছে, অন্যদিকে বিজেপি বিষয়টিকে ব্যক্তিগত দাবি বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।