তৃণমূলের পার্টি অফিসে ঢুকে কর্মীদের পা ছুঁয়ে প্রণাম! বর্ধমানে সৌজন্যের নজির গড়লেন বিজেপি প্রার্থী সঞ্জয়

ভোটের উত্তপ্ত আবহে সৌজন্যের নজির নাকি সুকৌশলী চাল? বর্ধমান উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে প্রচারের ময়দানে নেমে এক অভাবনীয় কাণ্ড ঘটালেন বিজেপি প্রার্থী সঞ্জয় দাস। বৃহস্পতিবার ভোটপ্রচারে বেরিয়ে তিনি সটান ঢুকে পড়লেন রায়ান ২ নম্বর অঞ্চলের তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিসে। সেখানে উপস্থিত ঘাসফুল শিবিরের নেতা-কর্মীদের দেখে পিছু হঠা তো দূর অস্ত, বরং উল্টে তাঁদের পা ছুঁয়ে প্রণাম করলেন বিজেপি প্রার্থী। জোড়হাতে বিনীতভাবে চাইলেন ভোটও।

তৃণমূলের ডেরায় বিজেপি প্রার্থী:
ঘটনার সময় তৃণমূল কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন রায়ান ২ নম্বর অঞ্চলের তৃণমূল সভাপতি ধনঞ্জয় পাল-সহ একাধিক সক্রিয় কর্মী-সমর্থক। তাঁদের সামনেই সঞ্জয় দাস করজোড়ে নিবেদন করেন, “আপনাদের কাছে আমি আশীর্বাদ নিতে এসেছি। আমায় একটা সুযোগ দিন।” হঠাৎ প্রতিপক্ষ শিবিরের প্রার্থীকে এভাবে নিজেদের অফিসে দেখে প্রথমে হকচকিয়ে গেলেও, তৃণমূল কর্মীরা তাঁকে ফিরিয়ে দেননি।

সৌজন্য বনাম রাজনৈতিক তরজা:
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, তাঁদের পার্টি অফিসে বিজেপি প্রার্থী সসম্মানে ঢুকতে এবং বেরোতে পেরেছেন—এটাই প্রমাণ করে যে তৃণমূল প্রকৃত গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। অন্যদিকে, বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এটাই বাংলার আদি এবং অকৃত্রিম সংস্কৃতি ছিল, যা দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম শাসন এবং ১৫ বছরের তৃণমূল জমানায় কলুষিত হয়েছে। বিজেপি প্রার্থী সেই হারিয়ে যাওয়া রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও ঐতিহ্যকেই ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। বর্ধমানের এই দৃশ্য এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল, যা দেখে অনেকেই বলছেন— রাজনীতির ময়দানে লড়াই থাকলেও ব্যক্তিগত সৌজন্য যেন এভাবেই অটুট থাকে।