মাছে-ভাতে বাঙালির পাতে কেন ভিনরাজ্যের মাছ? হলদিয়া থেকে মমতার সরকারকে ‘ডবল ধোঁকা’র জবাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়ায় এক বিশাল জনসভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের অপশাসনের বিরুদ্ধে ‘৬ দফা গ্যারান্টি’ ঘোষণা করলেন তিনি। শুধু তাই নয়, বাঙালির আবেগ ‘মাছ’ নিয়েও শাসকদলকে পাল্টা চাপে ফেলে মোদী প্রশ্ন তুললেন, “কেন আজও বাংলাকে অন্য রাজ্য থেকে মাছ আনতে হয়? গত ১৫ বছরে তৃণমূল সরকার মাছ উৎপাদনে বাংলাকে স্বনির্ভর করতে পারেনি কেন?”

মোদীর ৬ গ্যারান্টি: দুর্নীতির ফাইল থেকে সপ্তম পে কমিশন
হলদিয়ার মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে কী কী আমূল পরিবর্তন ঘটবে:
১. ভয়ের বদলে ভরসা: সাধারণ মানুষকে গুণ্ডা ও সিন্ডিকেটের ভয় থেকে মুক্তি দিয়ে প্রশাসনের ওপর আস্থা ফেরানো হবে।
২. জবাবদিহি: সরকারি ব্যবস্থা জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করবে এবং প্রতিটি কাজের কৈফিয়ত দেবে।
৩. দুর্নীতির ফাইল খোলা: নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে নারী নির্যাতনের প্রতিটি ফাইল পুনরায় খোলা হবে এবং অপরাধীরা শাস্তি পাবে।
৪. জেল হবে ঠিকানা: দুর্নীতিগ্রস্ত মন্ত্রী বা নেতা—আইন কাউকেই ছাড়বে না। তৃণমূলের জমানায় যারা টাকা লুটেছে, তাদের জায়গা হবে জেলে।
৫. শরণার্থী ও অনুপ্রবেশকারী: শরণার্থীদের সমস্ত নাগরিক অধিকার দেওয়া হবে এবং অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে বের করা হবে।
৬. সপ্তম পে কমিশন: বাংলার রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে বিজেপি ক্ষমতায় এলেই সপ্তম পে কমিশন লাগু করা হবে।

তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ ও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের ডাক:
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, তৃণমূল সরকার কেন্দ্রের জনহিতকর প্রকল্পগুলির নাম বদলে দিচ্ছে অথবা রাজ্যে তা কার্যকর হতে দিচ্ছে না। তাঁর কথায়, “তৃণমূল আমাকে ঘৃণা করে বলেই বাংলার গরিব মানুষকে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত রাখছে।” নারী সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ডাক্তার থেকে স্কুলছাত্রী—তৃণমূলের রাজত্বে কেউই নিরাপদ নয়। ৫ বছর আগে নন্দীগ্রাম পরিবর্তনের যে পথ দেখিয়েছিল, এবার ভবানীপুর ও সমগ্র বাংলায় তার পুনরাবৃত্তি হবে বলে তিনি দাবি করেন। হলদিয়ার রুগ্ন শিল্প ও বেকারত্ব ঘোচাতে ‘রোজগার মেলা’ এবং সময়মতো চাকরির পরীক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মোদী বলেন, “বাংলার হৃতগৌরব ফেরাতে ডবল ইঞ্জিন সরকার এখন সময়ের দাবি।”