“নন্দীগ্রামে যা হয়েছিল, ভবানীপুরেও হবে”-বাংলায় পরিবর্তনে শুভেন্দুর উপর আস্থা মোদির

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে বড় ‘ব্যাটিলগ্রাউন্ড’ হতে চলেছে ভবানীপুর। ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হারের ক্ষত এখনও টাটকা, আর এবার সেই একই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ভবানীপুরে ঘটাতে চাইছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার হলদিয়ার জনসভা থেকে সরাসরি তৃণমূল নেত্রীর নিজের কেন্দ্রকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন তিনি।
“নন্দীগ্রামের ট্রেলার ছিল, আসল খেলা ভবানীপুরে”
প্রধানমন্ত্রী এদিন স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এবারের নির্বাচন স্রেফ সরকার গড়ার লড়াই নয়, এটা বাংলাকে পুনরুদ্ধার করার লড়াই। ৫ বছর আগে নন্দীগ্রাম পরিবর্তনের দিশা দেখিয়েছিল, এবার সেই একই ঝোড়ো হাওয়া বইবে ভবানীপুরে। এই নির্মম সরকারের বিদায় নিশ্চিত করবে সাধারণ মানুষই।”
শুভেন্দুর ওপর মোদী-শাহের অগাধ ভরসা
প্রধানমন্ত্রী ভাষণ দেওয়ার আগেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এক চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করেন। শুভেন্দু জানান, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে তাঁর ওপর। তাঁর কথায়:
“আমার নেতা নরেন্দ্র মোদী আমায় নির্দেশ দিয়েছেন ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করার জন্য। মোদীজি, আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন, নন্দীগ্রামে ১৯৫৭ ভোটে যা করে দেখিয়েছিলাম, আপনার কথা রাখতে ভবানীপুরেও ঠিক তা-ই হবে।”
এর আগে অমিত শাহ-ও একই সুরে জানিয়েছিলেন যে, তাঁরা চেয়েছিলেন শুভেন্দু শুধু নন্দীগ্রাম নয়, মমতার ঘরে ঢুকে ভবানীপুরেও লড়াই করুন। বিজেপির রণকৌশল পরিষ্কার— মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর নিজের দুর্গেই কোণঠাসা করা।
কেন ভবানীপুর এত গুরুত্বপূর্ণ?
বিজেপি নেতৃত্ব বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ২০২১-এ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেও নন্দীগ্রামে ব্যক্তিগতভাবে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। ২০২৬-এ বিজেপি চাইছে না কোনও ফাঁক রাখতে। মোদী-শাহ জুটির লক্ষ্য হলো, এবার সরকার এবং ব্যক্তিগত আসন— দুই জায়গাতেই মমতাকে ধরাশায়ী করা।
পরিবর্তনের ডাক হলদিয়ায়
হলদিয়ার মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে পরিবর্তনের এক শক্তিশালী ঢেউ শুরু হয়েছে। তৃণমূলের ‘সিন্ডিকেট রাজ’ ও ‘কাটমানি’ সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে বিজেপি সরকার আনার জন্য তিনি আমজনতার প্রতি আহ্বান জানান।