‘এবার সত্যিই খেলা হবে!’ হলদিয়া থেকে মমতার গড় কাঁপালেন মোদী, চব্বিশের পুনরাবৃত্তির হুঁশিয়ারি

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বেজে গিয়েছে বাংলায়। আর এই মহাসংগ্রামে ঘাসফুল শিবিরকে উপড়ে ফেলতে ঝোড়ো প্রচার শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। হলদিয়ার হাইভোল্টেজ জনসভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসকে (TMC) বেনজির আক্রমণ শানিয়ে মোদী সাফ জানালেন, এবারের লড়াই কোনো সাধারণ নির্বাচন নয়, বরং বাংলার হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারের লড়াই। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, “বাংলার আনাচে-কানাচে এখন বিজেপির অনুকূলে প্রবল জনজোয়ার। এবার সত্যিই খেলা হবে!”
তৃণমূলকে ‘পাপের’ হিসেব দিলেন মোদী:
হলদিয়ার মঞ্চ থেকে মোদী অভিযোগ করেন, গত এক দশকে তৃণমূল সরকার বাংলাকে শুধু পিছিয়েই দিয়েছে। তাঁর কথায়, “টিএমসির নির্মম শাসনে রাজ্যে কেবল অনুপ্রবেশকারীদের কারখানা আর অপরাধীদের দোকান ফুলেফেঁপে উঠেছে।” তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পাঁচ বছর আগে নন্দীগ্রামে যা ঘটেছিল, ২০২৬-এ ভবানীপুর থেকে শুরু করে গোটা বাংলাতেই তার পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে। ৪ মে-র পর তৃণমূলের সমস্ত ‘পাপের’ হিসেব নেওয়া হবে বলে হুঙ্কার ছাড়েন তিনি।
যুবকদের ‘ডবল ধোঁকা’ ও নিয়োগ দুর্নীতি:
প্রধানমন্ত্রী এদিন সরাসরি বাংলার যুবসমাজের বঞ্চনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “তৃণমূল সরকার বাংলার যুবকদের সঙ্গে দ্বিগুণ প্রতারণা করেছে। বেসরকারি ক্ষেত্রে কোনো চাকরি নেই, আর সরকারি চাকরির শূন্যপদগুলো তৃণমূলের মন্ত্রীরা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে লুট করছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, যোগ্য প্রার্থীদের স্বপ্ন ভেঙে দিয়ে অনুপ্রবেশকারীদের সুবিধা পাইয়ে দিচ্ছে এই সরকার।
উন্নয়ন বনাম সিন্ডিকেট রাজ:
মোদী জোর দিয়ে বলেন যে, যেখানে ভারত বিশ্বের দ্রুততম অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে, সেখানে তৃণমূলের ‘কাটমানি’ ও ‘সিন্ডিকেট রাজ’ বাংলাকে তলানিতে নামিয়ে এনেছে। তিনি বলেন, “শিল্প ও বাণিজ্য ভয় দেখিয়ে হয় না, তা চলে বিশ্বাসের ওপর। এই হৃদয়হীন সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর এখনই উপযুক্ত সময়।” এর পাশাপাশি ধর্মীয় ভিত্তিতে অসাংবিধানিক সংরক্ষণ দেওয়ার চেষ্টার জন্যেও তিনি রাজ্য সরকারের কড়া সমালোচনা করেন। সবশেষে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস, “উন্নত বাংলার জন্য বিজেপিই একমাত্র বিকল্প। সকলের অধিকার রক্ষা হবে, এটাই মোদীর গ্যারান্টি।”