চাঁদে মিলল অঢেল জল! কয়েক বিলিয়ন বছর ধরে জমানো এই সম্পদ কি এবার মহাকাশ গবেষণার মোড় ঘুরিয়ে দেবে?

চাঁদের অন্ধকার পিঠে কি লুকিয়ে রয়েছে এক বিশাল মহাসাগর? কয়েক লাখ বা কোটি বছর নয়, বরং বিগত ৩০০ থেকে ৩৫০ কোটি বছর ধরে চাঁদের মাটিতে নিরন্তর জমা হচ্ছে জল। সম্প্রতি ‘নেচার অ্যাস্ট্রোনমি’ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা রিপোর্টে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে বিজ্ঞান মহলে। কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাটমিক এবং স্পেস ফিজিক্সের প্ল্যানেটারি সায়েন্টিস্ট পাউল হাইন এবং তাঁর গবেষক দল এই অসাধ্য সাধন করেছেন।
কোথায় লুকিয়ে এই জল?
বিজ্ঞানীদের দাবি, চাঁদের মেরু অঞ্চলের গভীর গর্তগুলোতে (Craters), যেখানে সূর্যের আলো পৌঁছায় না, সেখানেই বরফ আকারে জমে রয়েছে এই জল। পাউল হাইন জানিয়েছেন, “আমরা যা ভেবেছিলাম, চাঁদে তার চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণে জল সঞ্চিত রয়েছে। বিগত ৩.৫ বিলিয়ন বছর ধরে এই প্রক্রিয়া চলছে।” আগে ধারণা করা হতো যে বিশালাকার ধূমকেতুর আছড়ে পড়ার ফলে চাঁদে জল এসেছে, কিন্তু বর্তমান গবেষণা সেই দাবিকে সরাসরি নস্যাৎ করে দিয়েছে।
জলের উৎস নিয়ে রহস্য:
তাহলে চাঁদে জল এল কোথা থেকে? বিজ্ঞানী পাউল হাইন দুটি সম্ভাব্য উৎসের কথা উল্লেখ করেছেন। প্রথমত, প্রাচীনকালে চাঁদে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি ছিল। সেই আগ্নেয়গিরিগুলি শান্ত হওয়ার সময় চাঁদের গভীর স্তর থেকে জলীয় বাষ্প বেরিয়ে এসে বরফ হিসেবে জমা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, সৌর বায়ুর (Solar Wind) প্রভাবেও চাঁদে জলের অণু সৃষ্টি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কেন এই আবিষ্কার ‘সোনার খনি’?
বিজ্ঞানীদের কাছে চাঁদের এই জল সোনার চেয়েও দামী। কারণ, ভবিষ্যতে যখন দীর্ঘমেয়াদী চন্দ্র অভিযান হবে, তখন মহাকাশচারীরা এই জল পান করতে পারবেন। শুধু তাই নয়, জলের অণুকে ভেঙে হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন আলাদা করে রকেটের জ্বালানি তৈরি করা সম্ভব হবে। ফলে চাঁদকে একটি ‘রিফুয়েলিং স্টেশন’ হিসেবে ব্যবহার করে মহাকাশযানগুলো আরও দূরে পাড়ি দিতে পারবে। ওডেড আহরোনসন সহ অন্যান্য গবেষকরা মনে করছেন, পৃথিবীর বাইরে তরল বা কঠিন অবস্থায় জলের অস্তিত্ব পাওয়া মানবজাতির জন্য এক নতুন দিগন্ত খুলে দিল।