রক্তাক্ত ভাঙড়: তৃণমূল-আইএসএফ সংঘর্ষে রণক্ষেত্র শাকশহর, ভাঙচুর আরাবুল ইসলামের গাড়ি! এলাকা জুড়ে প্রবল আতঙ্ক

ভোটের দামামা বাজতেই ফের অশান্তির আগুনে জ্বলছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়। বুধবার ক্যানিংয়ে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়ে ফেরার পথে হামলার মুখে পড়লেন দাপুটে তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলাম। শাকশহর এলাকায় তাঁর কনভয় লক্ষ্য করে ব্যাপক ইটবৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেস ও আইএসএফ (ISF) সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হয়, যা মুহূর্তের মধ্যে এলাকাকে রণক্ষেত্রে পরিণত করে।
ঘটনার সূত্রপাত: স্থানীয় সূত্রে খবর, বুধবার বিকেলে আরাবুল ইসলাম তাঁর বিশাল গাড়ির মিছিল নিয়ে ক্যানিং থেকে ভাঙড়ে ফিরছিলেন। মিছিলটি শাকশহর এলাকা অতিক্রম করার সময় আচমকাই রাস্তার দু’পাশ থেকে পাথর ও ইট ছুড়তে শুরু করে একদল দুষ্কৃতী। অতর্কিত এই হামলায় আরাবুলের কনভয়ে থাকা বেশ কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রাণভয়ে এদিক-ওদিক ছুটতে শুরু করেন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা।
তৃণমূল বনাম আইএসএফ সংঘর্ষ: ইটবৃষ্টির ঘটনার পরই পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। তৃণমূল ও আইএসএফ কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে শুরু হয় তীব্র বচসা ও হাতাহাতি। একে অপরের দিকে লাঠিসোঁটা নিয়ে তেড়ে যায় দু’পক্ষ। এলাকা জুড়ে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, বন্ধ হয়ে যায় দোকানপাট। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক রেষারেষি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এখন তলানিতে।
পুলিশি তৎপরতা: পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ভাঙড় থানার বিশাল পুলিশবাহিনী। পরে চন্দনেশ্বর থানার পুলিশও সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। বর্তমানে এলাকায় উত্তেজনা থাকায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাফ (RAF)। চলছে কড়া নজরদারি।
অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ: ঘটনার পর যথারীতি রাজনৈতিক তর্জা তুঙ্গে।
-
তৃণমূলের দাবি: আইএসএফ আশ্রিত দুষ্কৃতীরা পরিকল্পিতভাবে আরাবুল ইসলামের ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে। শান্তি বিঘ্নিত করাই তাদের লক্ষ্য।
-
আইএসএফ-এর পাল্টা তোপ: তৃণমূল কর্মীরাই প্রথম উস্কানিমূলক স্লোগান দেয় এবং এলাকায় অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করে। আইএসএফ কর্মীরা শুধু আত্মরক্ষা করেছে।
ভোটের মনোনয়ন পর্ব ঘিরেই যদি ভাঙড়ের এই চেহারা হয়, তবে ভোটগ্রহণের দিন পরিস্থিতি কী হবে— তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় জেলা প্রশাসন ও সাধারণ ভোটাররা।