বামেদের দুর্গে ফাটল! কেরলে লাল শিবিরের দীর্ঘদিনের ‘ভোটব্যাংক’ কি এবার পদ্ম শিবিরে? তোলপাড় দক্ষিণ ভারত!

কেরলের লাল দুর্গে কি এবার সত্যিই ভাঙন ধরতে চলেছে? দক্ষিণ ভারতের এই রাজ্যের রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী ‘এঝাভা’ (Ezhava) সম্প্রদায়কে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন সমীকরণ। ঐতিহাসিকভাবে যারা বামপন্থীদের প্রধান শক্তি হিসেবে পরিচিত, সেই হিন্দু সম্প্রদায়ের ঝোঁক এবার গেরুয়া শিবিরের দিকে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আর এই সামান্য পরিবর্তনই এবারের নির্বাচনে বাম (LDF) ও কংগ্রেস (UDF)-এর সব হিসেব উল্টে দিতে পারে।
কেন এই এঝাভা ভোট এত গুরুত্বপূর্ণ? কেরলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ থেকে ২৩ শতাংশ মানুষ এই এঝাভা সম্প্রদায়ের। রাজ্যের অন্তত ২৫টি বিধানসভা আসনে এই সম্প্রদায়ের ভোটই শেষ কথা বলে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেরলে সাধারণত জয়ের ব্যবধান ৫ শতাংশের কম থাকে। সেখানে যদি ৮-১০ শতাংশ এঝাভা ভোট বিজেপির দিকে সরে যায়, তবে ফলাফল হবে অভাবনীয়।
বামেদের হাত ছাড়ার নেপথ্যে ৩টি প্রধান কারণ:
-
শবরীমালা বিতর্ক: শবরীমালা মন্দিরে মহিলাদের প্রবেশ নিয়ে বাম সরকারের অনড় অবস্থান এঝাভা ভোটারদের একটি বড় অংশের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করেছে। ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত লাগায় তারা বিকল্প খুঁজতে শুরু করেছে।
-
এসএনডিপি-র ভোলবদল: শ্রী নারায়ণ গুরুর আদর্শে চালিত এই শক্তিশালী সামাজিক সংগঠনের নেতৃত্বের একাংশ ইদানীং বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে দিয়েছে, যা নিচুতলার কর্মীদের মনেও প্রভাব ফেলছে।
-
অর্থনৈতিক অস্থিরতা: বিদেশে থাকা কেরলবাসীদের রেমিট্যান্স কমে যাওয়া এবং স্থানীয় নারকেল ও কাজু শিল্পের সমস্যা নতুন প্রজন্মের ভোটারদের মধ্যে শাসক দলের প্রতি অনীহা তৈরি করেছে।
আঙ্কিক সমীকরণে বিপাকে এলডিএফ: গত এক দশকে দেখা গেছে, বামেদের প্রতি এঝাভা সমর্থনে প্রায় ৭ শতাংশ হ্রাস ঘটেছে। এই হারানো ভোটের সিংহভাগই বিজেপির ঝুলিতে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যদিও পরিস্থিতি সামাল দিতে পাম্বায় ‘আয়্যাপ্পা কনক্লেভ’-এর মতো কর্মসূচি নিয়েছে পিনারাই বিজয়ন সরকার, কিন্তু ড্যামেজ কন্ট্রোল কতটা হবে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
ভোটের ময়দানে প্রভাব: কেরলের রাজনীতিতে এঝাভারা শুধু সংখ্যায় নয়, অর্থনৈতিকভাবেও অত্যন্ত শক্তিশালী। ছোট শিল্প থেকে শুরু করে বড় ব্যবসা—সবক্ষেত্রেই তাঁদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ফলে তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের অর্থ হলো পুরো রাজ্যের জনমতের মোড় ঘুরে যাওয়া।
একনজরে এঝাভা ফ্যাক্টর:
জনসংখ্যা: ২০-২৩% (কেরলের বৃহত্তম হিন্দু সম্প্রদায়)।
প্রভাবশালী আসন: অন্তত ২৫টি আসনে জয়-পরাজয় নির্ধারণ করে।
গত এক দশকের প্রবণতা: বাম সমর্থনে ৭% পতন।
নতুন গন্তব্য: বিজেপির ভোট শতাংশ বৃদ্ধির প্রবল সম্ভাবনা।
কেরলের রাজনীতি কি তবে এবার এক নতুন মেরুকরণের সাক্ষী হতে চলেছে? বামেদের ‘সেফ জোন’ থেকে এঝাভা ভোট সরে গেলে দিল্লির মসনদে কার পাল্লা ভারী হবে, তা নিয়ে দেশজুড়ে জল্পনা তুঙ্গে।